SAMADHAN JATRA

স্বনির্মিত বহুমাত্রিক স্বপ্নপ্রিয় মানুষ আনিসুল হক। যার জীবনের গল্পই হল আর্থ-সামাজিক উদ্যোগের, নেতৃত্বের, স্বপ্ন দেখবার, দেখাবার, চ্যালেঞ্জ নেওয়ার, সমাধান করার। ২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হবার পর এই মানুষটি ঢাকার লক্ষ মানুষকে নতুন করে স্বপ্নের এক মায়াজালে জড়িয়েছিলেন। “সমস্যা চিহ্নিত, এবার সমাধান যাত্রা” এই আহ্বানে ঢাকাকে এক নতুন রুপে সাজাতে বদ্ধপরিকর ছিলেন স্বপ্নপ্রিয় এই সুপারমেয়র। অকাল প্রয়াত এ মানুষটি মাত্র আড়াই বৎসর মেয়রের দায়িত্ব পালন করে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে ঢাকার সর্বশ্রেষ্ঠ মেয়র হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। স্বপ্নসারথি মেয়রের সমাধানযাত্রার নিম্নোক্ত মূল বিষয় গুলো সংরক্ষন ও বাস্তবায়ন করার মাঝেই তার স্বপ্ন লালিত হবে আমাদের মাঝে।

ঢাকার সমস্যা চিহ্নিত এবার সমাধান যাত্রা

পরিচ্ছন্ন-সবুজ পরিবেশবান্ধব ঢাকা

  • বর্জ্যের আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সার-সম্পদ সৃষ্টি।
  • প্রতি ওয়ার্ড, রাস্তা ও বাড়ি ভিত্তিক পরিকল্পিত বনায়ন।
  • জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
  • লেক-পার্ক-মাঠ পরিস্কার ও উন্নয়ন করে বিনোদনকেন্দ্র রুপে গড়ে তোলা।

মানবিক ঢাকা

  • নগর হবে মানবিক ও নাগরিক মর্যাদার।
  • প্রতিটি ওয়ার্ডে ডে কেয়ার সেন্টার কাম প্রি স্কুল নির্মাণ।
  • প্রতিটি ওয়ার্ডে ছাত্রী ও কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ।
  • কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোগ তৈরির প্রণোদনা ও ব্যবস্থা।
  • গারমেন্টস, পরিবহনসহ অন্যান্য খাতের শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যের আবাসন ব্যবস্থা।
  • সুসমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন।
  • সিটি কর্পোরেশনে অনুদান তহবিল গঠন করা, যার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, এতিমখানা, অন্যান্য উপাসনালয় এবং কমিউনিটির নানা উদ্যোগে অনুদান দেয়া।
  • ডিএনসিসির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়, নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষন ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা।
  • ডিএনসিসি এলাকায় একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ স্থাপন। অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উপাসনালয় নির্মাণে সহায়তা।
  • উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে কবরস্থান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন।

স্মার্ট ঢাকা

  • পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে পর্যায়ক্রমে পাবলিক প্লেসে পাবলিক ওয়াইফাই চালু করা।
  • ই- লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করা।
  • সিসিটিভির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ডিজিটাল বুলেটিন বোর্ড স্থাপন।
  • নাগরিক সমস্যা জানানো, সেবা সুবিধা, এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সমৃদ্ধ মোবাইল অ্যাপ চালু।
  • নাগরিক সেবা, অভিযোগ ও সমস্যা সমাধানে ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালু।
  • কর্পোরেশনের সব ধরনের সেবাকে ডিজিটাল করা ও ই-সেবা চালু করা।
  • ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চায় একটি সিভিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা।
  • মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক নারী-পুরুষদের বিশেষ সেবা সংবলিত সিটি কার্ড প্রচলন।
  • শিল্পী, সাংবাদিক, মিডিয়া ও সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য একটি মিডিয়া সেন্টার নির্মাণ।
  • তরুণদের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াকেন্দ্র নির্মাণ।

নিরাপদ স্বাস্থ্যকর ঢাকা

  • ফরমালিনমুক্ত বাজার ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা।
  • মাদক ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ।
  • নারীসহ সকলের জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক পাবলিক টয়লেট।
  • নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের নারী-পুরুষ ও বস্তিবাসীদের সেবার আওতা বাড়ানো।
  • সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
  • স্কুলে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য কর্মসূচি।
  • নগরীর জল-জমি-বায়ু-শব্দ দূষণ ও ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ।

সচল ঢাকা

  • গনপরিবহন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার ও নারীদের জন্য বিশেষ বাস।
  • যথাস্থানে বাস স্টপেজ ও রেল সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ।
  • মেট্ররেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নে তৎপরতা চালানো।
  • সড়ক সংস্কার ও ফুটপাথকে প্রশস্থ করে গাছ লাগানো, ছাউনিসমৃদ্ধ ও ব্যবহার উপযোগী করা।
  • পথচারীদের জন্য জেব্রা ক্রসিং, পথচারী সংকেত ও কমিউনিটি ট্রাফিক প্রচলন।
  • প্রতিটি জোনে পার্কিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স নির্মাণ।
  • নগরে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করা। যেখানে সম্ভব সাইকেল লেন নির্মাণ।

অংশগ্রহণমূলক সুশাসিত ঢাকা

  • আইনী দুর্বলতা দূর করে সিটি কর্পোরেশনকে সেবা প্রদানে ও নগর পরিকল্পনায় শক্তিশালী ও জনসম্পৃক্ত করা।
  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন। ডিএনসিসির নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা করা।
  • ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সভা ও কেন্দ্রীয়ভাবে নগর সভা করা। নগর উন্নয়নে উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন।
  • নাগরিক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন।
  • প্রতিবছর প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে দুজন সুনাগরিককে সিটি চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড দেয়া।