ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী ব্যবসায়ী আনিসুল হক। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন তিনি। জরিপ করে তিনি নগরীর মানুষের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন এবং নির্বাচিত হলে কিভাবে সেগুলোর সমাধান করবেন সেটাও ভোটারদের অবহিত করছেন। গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে একজন নগরপিতা হিসেবে নিজের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন আনিসুল হক।

উত্তরের সব মেয়র পদপ্রার্থীর ইশতেহার ও সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিতে মিল রয়েছে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘তার মানে, সমস্যা কমবেশি একই রকম এবং আমাদের সমাধানের কথাও প্রায় একই রকম। ‘

সব প্রার্থীই নাগরিকবান্ধব নগরী গড়ার কথা বলছেন জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা দুই থেকে তিনজন মেয়র প্রার্থী বলছি সচল ঢাকা, মানবিক ঢাকা। কেউ বলছি নারীবান্ধব ঢাকা, নিরাপদ ঢাকা- এসব বিষয় কমন। প্রশ্ন দাঁড়ায়, তাহলে কাকে ভোট দেবেন ভোটাররা?’ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘এখন ভোটারকেই ঠিক করতে হবে- উত্তরের বাড়িটির জন্য কাকে প্রয়োজন? ঢাকা তাঁর বাড়ি, তাঁর ঘর। এই ঢাকার সেবা করার জন্য ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে কে সবচাইতে যোগ্য? সেই যোগ্য প্রার্থীকেই যেন ভোটাররা ভোট দেন। ‘

নগর সরকার প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, ‘আমার সব বন্ধু (মেয়র প্রার্থীদের), যাঁদের সঙ্গেই কথা বলেছি, তাঁদের প্রায় সবাই নগর সরকারের কথা বলেছেন; নগর সরকার না হলে নাকি কোনো নগরীর সমস্যার সমাধান করা যাবে না। এই বিষয়ে আমার মত হচ্ছে, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন অবিভক্ত ঢাকার মেয়র ছিলেন প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফ সাহেব। তিনি তখন নগর সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি করেছিলেন কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে নগর সরকার করেনি। এখন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ, তারাও নগর সরকার করেনি। তার মানে হলো, কেউ যদি নগর সরকার করতে চায়, সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তাঁর মতাদর্শের অন্য কোনো সরকারের প্রয়োজন হবে। ‘

আনিসুল হক বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আমরা যতই সমস্যা মোকাবিলা করব, ততই সমাধানের রাস্তা দেখব, সমাধান করতে পারব। তবে নগরীর সমস্যা সমাধানের জন্য যদি নগর সরকার প্রয়োজন হয়, তাহলে এর জন্য আমি লড়ব। ‘

আনিসুল হক বলেন, ‘আমার ধারণা, সবার মধ্যে আমার অভিজ্ঞতা বেশি; আমার জীবনের লড়াই বেশি। আমি অনেক সংগ্রাম করে বড় হয়েছি। আমি সাধারণ মানুষের কষ্ট বুঝি। আমার শিল্প-কারখানায় অনেক শ্রমিক আছে। আমি অর্থনৈতিক উন্নয়ন বুঝি। আমি অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। আমাকে ঘড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে একটি মানবিক ঢাকা উপহার দেব নগরবাসীকে। ‘

তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে ভোট দিলে জীবনের পাঁচটি বছর নগরবাসীর জন্য কাজ করব। আমি আমার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ বছরের সময় নিয়েছি। বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি মানুষের কাছে যাচ্ছি। নির্বাচিত হলে পাঁচ বছর নগরবাসীর জন্য কাজ করব। ঢাকার মানুষের কাছে যাব, সমস্যা দূরীকরণের সংগ্রাম করে যাব। সেই দিক থেকে আমি মনে করি, আমার ভোট চাওয়ার অধিকার অন্য কারো চেয়ে কম নয়। সুতরাং আমি ঘড়ি মার্কায় ভোট চাই। ‘

ঢাকার তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রি কমিয়ে আনার কথা জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘নাগরিকদের প্রতি পাঁচজনের জন্য একটি করে গাছ লাগানো সম্ভব হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকার তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে বিদেশি একটি সংস্থার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপও হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ কোনো বাধা নয়। প্রয়োজন শুধু উদ্যোগের। ‘

নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, যোগ্য ব্যক্তিটিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য ভোটাররা মুখিয়ে আছেন জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন এলাকায় যাচ্ছি; নতুন করে মানুষের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। দিন যত যাচ্ছে ততই নির্বাচনী প্রচারণা উৎসবমুখর হচ্ছে। মানুষ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছে। তাদের কথা শোনার চেষ্টা করছি। নগরবাসীর অভিযোগ জানার চেষ্টা করছি। ‘ নির্বাচিত হলে তাদের সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আনিসুল হক বলেন, ‘আমি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে অনেক কষ্ট করে উঠে এসেছি। আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি ২৫ বছর ধরে ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিয়েছি। আমার গার্মেন্টশিল্পে ১৫ হাজার ভাই-বোন কাজ করেন। আমি নির্বাচিত হলে ২৫ বছরের সব অর্জন আমি পাঁচ বছরে নষ্ট হতে দেব না। আমি কাজ করে যাব। ‘

ভোটারদের উদ্দেশে আনিসুল হক বলেন, ‘আমার ওপর আপনারা আস্থা রাখবেন, ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করলে আমি আপনাদের সেবায় কাজ করতে পারব। ‘

কোনো প্রলোভনে কাউকে ভোট দেবেন না, সৎ মানুষটিকে বেছে নেবেন অনুরোধ জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘ঢাকা উত্তরকে একটি সুখী বাড়িতে পরিণত করব। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন, কথা দিচ্ছি আমি আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবই। পরিকল্পিত এবং বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেব, ঢাকা উত্তরকে একটি সুখী বাড়িতে পরিণত করব। তরুণদের স্বপ্নপূরণে অবশ্যই পরিকল্পিত উপায়ে কাজ করব। ‘ নির্বাচিত হলে নগরীর প্রধান সমস্যাগুলো সবার আগে সমাধানের কথা জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘মশা, পথঘাটের বেহাল দশা, উচ্চ বাড়িভাড়া ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের অন্যতম সমস্যা। এ ছাড়া নিরাপত্তার সংকট, গণপরিবহনের অভাব, জলাবদ্ধতা, মাদকের সমস্যা রয়েছে। ঢাকা উত্তরের ৩৬টি ওয়ার্ডে জরিপ করে নগরবাসীর সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি। আমি নির্বাচিত হলে নগরবাসীকে নিয়ে প্রথমেই এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেব। ‘

View Source PDF