বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সাড়া না পাওয়ায় আজ থেকে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদে নামছে সিটি করপোরেশন। চলবে আগামী ১০ অক্টেবর পর্যন্ত। তবে এ সময়ের মধ্যে বিলবোর্ড মালিকরা ইচ্ছা করলে নিজে থেকেও তাদের বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলতে পারেন। তা না হলে ১০ অক্টোবরের পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা বা মামলা-মোকদ্দমাসহ সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেবে করপোরেশন। গতকাল বেলা ১১টায় গুলশানে উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আনিসুল হক এ কথা বলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটির সব বিলবোর্ডই এখন অবৈধ বলেও জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আনিসুল হক জানান, গত ৩০ জুন উত্তর সিটির সব বৈধ বিলবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। সে হিসেবে ১ জুলাই থেকে সব বিলবোর্ডই ছিল অবৈধ। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন হোল্ডিংয়ের ছাদে বা দেয়ালে স্থাপিত বিলবোর্ডের ৯০ ভাগই অবৈধ। তারপরও বিলবোর্ড অপসারণে ব্যবসায়ীদের তিন মাস সময় দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে সাড়া না পেয়ে প্রথম দফায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে সিটি করপোরেশন। এরপর ব্যবসায়ীদের বিলবোর্ড রক্ষায় কিছুটা টনক নড়লে তাদের অনুরোধে ফের ৫ আগস্ট সময় বেঁধে দেয় ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় নতুন করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেয়র বলেন, বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ডে আমরা অত্যন্ত আশাহত। যে গতিতে এবং উদ্যমে এই সেক্টরে শৃঙ্খলা আনতে চেয়েছিলাম, বিলবোর্ড অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এবং তাদের সদস্যদের নির্লিপ্ততার কারণে সেই গতি অনেক শ্লথ হয়েছে। বিনয়ী হওয়াটাকে অনেকে দুর্বলতা মনে করেছেন।

বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দয়া করে আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। যে যার বিলবোর্ড নিজ উদ্যোগে অপসারণ করুন। তিনি বলেন, যারা ১০ অক্টোবরের মধ্যে বিলবোর্ড সরাতে ব্যর্থ হবেন তাদের সিটি করপোরেশনের কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে যাতে ভবিষ্যতে বিলবোর্ড ব্যবসার সুযোগ না পান। এ সময় সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক এবং বিলবোর্ড ব্যবসায়ীকে কোনো রকম আইনি ঝামেলায় না জড়ানোর পরামর্শ দেন আনিসুল হক। রাস্তার পাশে স্থাপিত ইউনিপোল ও বিলবোর্ড জনজীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে জানান আনিসুল হক। এ ছাড়া এ ধরনের ইউনিপোল রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী থেকেও এগুলো দ্রুত অপসারণের জন্য বার বার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। সব বিলবোর্ড অবৈধ হলে সম্প্রতি সরকারের উন্নয়ন প্রচারণায় নগরজুড়ে যেসব বিলবোর্ড স্থাপিত হয়েছে সেগুলো কী করা হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘সরকারি প্রয়োজনে বৈধ বিলবোর্ডের মাধ্যমে উন্নয়ন-প্রচার করা যাবে।’ অপর এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের দ্বারা স্থাপিত বিলবোর্ড পুলিশ নিজেই উচ্ছেদ করবে বলে জানান তিনি।