সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচার এখন তুঙ্গে। আর একদিন পর আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। তিন সিটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীসহ অন্য প্রার্থীদের এখন ঘুম হারাম। ঊর্ধ্বশ্বাসে তারা ছুটছেন ভোটারদের কাছে। দিন-রাত চালাচ্ছেন গণসংযোগ ও প্রচার
তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর বাকি দুইদিন। প্রার্থীদের প্রচার এবং গণসংযোগের সময়ও শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে। শেষ মুহূর্তে প্রচার ও গণসংযোগে মহাব্যস্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক ও তাবিথ আউয়াল। তাদের চোখে ঘুম নেই। দু’জনেরই পোস্টার-লিফলেটে ছাওয়া নগরীতে সর্বত্র এখন ভোট উৎসবের আমেজ। সুদৃশ্য ভবন থেকে শুরু করে বস্তিতে বস্তিতে ছুটছেন এ দুই প্রার্থী। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তাদের কর্মী-সমর্থকরাও বসে নেই।
কাকাডাকা ভোর থেকে তারাও ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ভোট উৎসব নিয়ে ব্যাপক মাতামাতি। দু’জনের শেষ মুহূর্তের প্রচারে অনেকটা ভিলেনের মতই দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছে বৈশাখের ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি। তবে এসব উপেক্ষা করেই ছুটছেন তারা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের প্রচারণায়ও যুক্ত হয়েছে নানা মাত্রা। ভোট প্রার্থনা করে গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে ইন্টারনেটে অনলাইন বিজ্ঞাপন দিয়েছেন বিভিন্ন ওয়েবসাইটে। পোস্টার, লিফলেট, আনিসুল হকের খোলা চিঠি বিতরণ হয়েছে উত্তরের সব কয়টি ওয়ার্ডে। চলছে মাইকিং। আনিসুল হক নিজে গণসংযোগে ছুটছেন সাধারণ ভোটারদের মাঝে। আনিসুল হকের পক্ষে ‘আমি ঢাকা, তুমি ঢাকা’ নির্বাচনী সঙ্গীতের সুরে সুরে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ টেবিল ঘড়ি (ছোট পিকআপের ওপর স্থাপিত) প্রচার চালাচ্ছে নগরের অলিগলিতে।
শনিবার দুপুরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে তেজগাঁও থেকে প্রচার শুরু করেন আনিসুল হক। দুপুর সাড়ে ১২টায় তেজগাঁও কলেজ মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। বিকেল সোয়া ৪টায় তিনি মিরপুরের পল্লবী থানার সামনে হারুন মোল্লা মাঠে একটি কনসার্টে যোগ দেন। খ্যাতনামা শিল্পীদের নিয়ে এ কনসার্টে অন্যদের মধ্যে গান গেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ এমপি। পরে বিকেল সোয়া ৫টা থেকে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে তিনি গণসংযোগ ও প্রচার চালান।
এর আগে শনিবার সকালে ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘কেমন মেয়র হবো’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে আনিসুল হক বলেন, ঢাকাকে সিঙ্গাপুরের মতো সুন্দর নগরী করা অসম্ভব নয়। এর জন্য দরকার শুধু পরিকল্পনা করে সেই মোতাবেক পথ চলা।
তাবিথ ভোট চাইছেন সকাল থেকে রাত :১১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরুর পর সকাল ১০টার আগে কখনও প্রচারে নামেননি আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল সদলে নেমে গেলেন সকাল ৮টায়। উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরের বস্তি ও কলোনিতে প্রচার চালান। বৃষ্টি বারবার হানা দিলেও প্রচার থেমে থাকেনি। সোনালী ব্যাংক স্টাফ কলেজ সংলগ্ন ৮ নম্বর বস্তির ঘরে ঘরে ‘বাস’ মার্কায় ভোট চান।
সেখান থেকে তাবিথ রেললাইন সংলগ্ন সেলিমের বস্তিতে যান। বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি-না, তা নিয়ে আমাদের শঙ্কা আছে। সর্বশেষ সেনা মোতায়েন নিয়ে যে টালবাহানা করা হলো, সেটি আমাদের শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগণ আমাদের চাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমরা নির্বাচনের মাঠে লড়াই চালিয়ে যাব।’
একটি গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় আবার প্রচারে নামেন তাবিথ। মালিবাগের চৌধুরী পাড়ার পল্লীমা সংসদ এলাকায় গণসংযোগ করেন। এর কিছু আগে ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশজুড়ে। আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেন তাবিথ।
এর মধ্যে বেরসিক বৃষ্টি আবার হানা দেয়। মগবাজারের নিত্যদিনের ধূলিময় রাস্তায় বৃষ্টিতে কাদায় মাখামাখি। সাধারণ মানুষের পথচলা দায়। ভোগান্তি আরও বাড়ে ভোটের প্রচারে নামা প্রার্থীদের সমর্থকদের ভিড়ে। বৃষ্টির মধ্যে বাস মার্কায় ভোট চেয়ে ওয়ারলেস গেটে হ্যান্ড মাইকে বক্তব্য দিলেন তাবিথ।
সন্ধ্যায় রাজধানীর গ্রিন রোডের গ্রিন সুপার মার্কেটে প্রচার চালান তাবিথ। রাতেও থেমে ছিল না প্রচার। গুলশান-১ নম্বরের ডিসিসি মার্কেটের প্রচার শুরু হয় সাড়ে আটটায়।

