রাজধানীর নিকেতনের শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্কের উত্তর গেটে গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় উপস্থিত হন অভিনেতা শহিদুল আলম সাচ্চু। দুই মিনিট পর সেখানে হাজির হন অভিনেতা মাসুম আজিজ। এরপর দু-এক মিনিট পর পর হাজির হতে থাকেন অভিনয়শিল্পীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে ফজলে রাব্বি পার্ক শিল্পীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। রামেন্দু মজুমদার, ইনাম আল হক, এ টি এম শামসুজ্জামান, শর্মিলী আহমেদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, অরুণা বিশ্বাসসহ অর্ধশতাধিক শিল্পীর পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে পার্কটি। তাঁদের একনজর দেখতে ভিড় জমে যায় পার্কে।
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের একটু দেখার জন্য ভিড় করলেও সাধারণ মানুষ আসলে অপেক্ষা করছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আনিসুল হকের জন্য। দুপুর পৌনে ১টায় আনিসুল হক পার্কে যান, উপস্থিত অনেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানান। কেউ বা তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন। এরপর উপস্থিত সব অভিনয়শিল্পী আনিসুল হকের জন্য ভোট চেয়ে ঝাড়ু ও ঝুড়ি হাতে নিয়ে পরিচ্ছন্ন ঢাকা অভিযানে নামেন। তাঁরা আনিসুল হকের সঙ্গে প্রতীকী কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
আনিসুল হককে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রবীণ অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান বলেন, আনিসুল হক একজন শিল্পী। শিল্পীদের প্রতিনিধি তিনি। তাঁর পাশে আমাদের শিল্পীসমাজ থাকবে।
নাট্যব্যক্তিত্ব ও অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার বলেন, যোগ্য প্রার্থী ও পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে আনিসুল হককে ভোট দেওয়া নগরীর সব ভোটারের উচিত।
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও ইনাম আল হক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানান।
গতকাল আনিসুল হকের পরিচ্ছন্ন ঢাকা কর্মসূচিতে হাজির হয়েছিল পরিচ্ছন্নতাকর্মী মনি বেগম, শিরিনা আক্তার, ফয়জুন্নেসা বেগমসহ ১০ জনের একটি দলও। ঝাড়ু আর বেলচা হাতে নিয়ে তাঁরা অভিনয়শিল্পীদের পাশেই ছিলেন।
ষাটোর্ধ্ব মনি বেগম বলেন, আনিসুল হক ভালা মানুষ, উনার জন্য রাস্তা পরিষ্কারের কাজে আসছি। শিরিনা আক্তার বলেন, যাগো টেলিভিশনে দেখি, হেরা আমাগো লগে আইজ ঝাড়ু হাতে রাস্তা ঝাড়ু দিছে। আমি এমন দেইখ্যা টাসকি খাইয়া গেছি। ফয়জুন্নেসা বলেন, যেই মেয়র প্রার্থীর লাইগ্যা এত এত নায়ক-নায়িকা ভোট চাইতে আসে, হেই লোক খারাপ লোক না। আমরা সবাই আনিসুল হককে ভোট দিয়া পাস করামু।
আনিসুল হক বলেন, শিল্পীদের মানুষ ভালোবাসে; আমার হয়ে উনারা ঝাড়ু হাতে প্রতীকী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছেন। আমি উত্তরের মানুষের কাছে সুযোগ চাই, যেন নগরীকে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। আর পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে হলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি সব নাগরিককে এ কাজে সহযোগিতা করতে হবে, সবাইকে সচেতন হতে হবে। নগরীর মানুষকে সচেতন করতেই আমরা ঝাড়ু হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমেছি।
এর আগে সকাল ৯টায় মিরপুর মোল্লা মার্কেট, বর্ধিত পল্লবী, দোয়ারী বাজার, ভোলা বস্তিসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন আনিসুল হক।
বর্ষবরণের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে নারী নিপীড়নের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, ওই ঘটনা শুধু নারীর অবমাননা নয়, মানবতার প্রতি নির্মম আঘাতও। নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ নিরাপদ নগরীর অঙ্গীকার নিয়ে আমরা যখন নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি, তখন এ ধরনের ঘটনা আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নপূরণের পথে বাধা।
আনিসুল হক বলেন, নির্বাচনের ইশতেহারে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার নারী। নারীর জন্য নিরাপদ নগরী ও মর্যাদাকর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আমরা নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা; নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু, ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, হেলথ কার্ড চালু, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রভৃতি প্রস্তাব দিয়েছি।

