ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচিত হলে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার বিষয়টিতেই অগ্রাধিকার দেবেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। এর মধ্যে যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির মতো কর্মসূচিগুলো থাকবে। ডিএনসিসির উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন গতকাল বুধবার হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর সমকালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। গত বছর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে আওয়ামী লীগ আতিকুল ইসলামকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়।

নগরবাসীর কাছে অন্য অঙ্গীকার প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে ১০০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচিতে আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো করতে চাই। এর মধ্যে ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও মাদকমুক্ত ঢাকা উপহার দিতে চান তিনি। ধূলিদূষণ ও যানজট নিরসনে দিনের বেলায় ঢাকা উত্তরের কোথাও কোনো নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের সব কাজ রাতের বেলায়ই সমাপ্ত করতে হবে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে নগর পরিকল্পনাবিদসহ সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আতিকুল ইসলাম বলেন, আদালত যখন যে রায় দেন, তা সাধারণ মানুষ হিসেবে তিনিও মাথা পেতে নেবেন। আদালত বলেছেন, ডিএনসিসি মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো বাধা নেই। ফলে নির্বাচন কমিশন এখন দ্রুত নির্বাচনের বন্দোবস্ত করবে- সবার মতো তিনিও সেই আশা করছেন। কমিশন তারিখ ঘোষণা করলেই প্রচারে নামার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে তার।

গত বছর আদালত নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করার আগে ব্যাপক গণসংযোগের মাধ্যমে নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন আতিকুল ইসলাম। সে সময় ডিএনসিসিভুক্ত প্রতিটি পাড়া-মহল্লার স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন তিনি। এসব সমস্যা সমাধানে করণীয় নিয়েও পরিকল্পনা আছে তার। গত বছরের ৯ জানুয়ারি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তফসিলের কার্যক্রম গত বছরের ১৭ জানুয়ারি স্থগিত করেন। গতকাল রিট আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখন আর কোনো বাধা নেই।

দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো বড় দলের পক্ষ থেকে ডিএনসিসির মেয়র নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নিজের জন্য এটা যত বড় সম্মান, ঠিক তত বড় দায়িত্ব। এ দায়িত্বের যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে চান তিনি। এ জন্য তিনি দল এবং ঢাকাবাসীর সহায়তা ও দোয়া চান।

তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী হিসেবে মাত্র ৪৮ মেশিন দিয়ে শুরু করে নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা করে তিনি যেমন সফল হয়েছেন; ঢাকাবাসী চাইলে সততার সঙ্গে তাদেরও সেবা দিতে চান তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক এই সভাপতি। বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্বকালে দেশের শিল্প খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্যোগ রানা প্লাজা ধসের দুর্ঘটনা ঘটে। অনিরাপদ শিল্প হিসেবে দেশে-বিদেশে তুমুল সমালোচনার মুখে বির্পয়য়ে পড়ে রফতানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। নিরাপদ পোশাকশিল্পের জন্য বাংলাদেশকে এখন রোল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে বিবেচনা করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটিকে বিশ্বমানের পরিচ্ছন্ন এবং বাসযোগ্য একটি নগরী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে তিনি কিছু হোমওয়ার্ক করে দেখেছেন, ঢাকাকে আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয়। কোনো একটি উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচি যথাযথ বাস্তবায়নে সংশ্নিষ্ট বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে কাজটির বাস্তবায়ন ভালোভাবে শেষ করা যায় না। এখানে সমন্বয় থাকলে প্রিয় এই নগরীর উন্নয়নে তেমন আর কোনো সমস্যা থাকবে না। সব পক্ষের সহযোগিতায় সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ঢাকাকে স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়া তোলার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।