ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও শিল্পপতি প্রয়াত আনিসুল হকের স্মরণসভায় তার স্ত্রী রুবানা হক অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, আনিসুল হক কপালি মানুষ। কপাল নিয়ে চলে গেছেন। শিল্পপতি হিসেবে তিনি বিদায় নিলে, এত ভালো বিদায় হতো না। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আনিসুল হক আমাদের শূন্য করে গেছেন। কিন্তু তিনি সুন্দরভাবে চলে গেছেন। তার মতো শতসহস্র আনিস আসুক। আমরা আনিসুল হক ফাউন্ডেশন গঠন করব এবং এর মাধ্যমে মিডিয়া, শিক্ষা ও উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৃত্তি প্রদান করব। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ কার্যালয়ে স্মরণসভায় এসব কথা বলেন রুবানা হক। আনিসুল হক বিজিএমইএ ছাড়াও ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সার্ক-সিসিআইর সাবেক সভাপতি। স্মরণসভায় ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের কাছে আনিসুল হকের নামে একটি সড়কের নামকরণের দাবি জানান। স্মরণসভায় আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক ও মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, আনিসুল হক সমাজকে দেখিয়ে গেছেন অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ পেলে আমরা ব্যবসায়ীরাও সমাজের জন্য কিছু করতে পারি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, তিনি ছিলেন মানুষপাগল। স্বপ্ন দেখতেন, দেখাতেন। এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের সবার দোয়া আনিসুল হকের সাহসী পরিবার শোককে যেন শক্তিতে পরিণতে করতে পারে। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, আনিসুল হক নিজের ব্যস্ততার মাঝেও সুবিধা-অসুবিধায় মানুষের পাশে ছিলেন। বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আনিসুল হক ব্যবসায়ীদের পাশে ছিলেন, ব্যবসায়ী সমাজও তার পরিবারের পাশে থাকবে। বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা বলেন, যেখানেই ত্যাগ, সেখানেই আনিসুল হক ছিলেন। বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক বলেন, আনিসুল হককে যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পছন্দ করতেন, তেমনি খালেদা জিয়াও পছন্দ করতেন। তিনি সবার পছন্দের মানুষ ছিলেন। বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান সরকারের কাছে ঢাকার একটি রাস্তা আনিসুল হকের নামকরণে করার দাবি জানান। তিনি বুকে জাতীয় পতাকা নিয়ে বিদায় নিয়েছেন। এটা বড় অর্জন। বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি হাসতে জানতেন, হাসাতেও জানতেন। বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, আমাকে বিজিএমইএ’তে আনেন সিনহা ভাই। আর সভাপতি বানিয়ে গেছেন আনিস ভাই। বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, আনিসুল হকের নগরচিন্তা ও পরিকল্পনা আজ দৃশ্যমান। বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, তার অসমাপ্ত কাজ যেন আমরা শেষ করতে পারি। স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম।
Published in: বাংলাদেশ প্রতিদিন ২০ ডিসেম্বর, ২০১৭

