ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মহাখালী ও তেজগাঁওয়ের সড়ক অবৈধ পার্কিংমুক্ত করার পর এবার গাবতলী-আমিনবাজার সড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দখলমুক্তির আলটিমেটাম দিয়েছেন মেয়র আনিসুল হক। অবশ্য পরিবহন শ্রমিকরা ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই এই সড়ক মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দখলমুক্ত হলে এই অংশ যানজটমুক্ত করা সম্ভব হবে।
ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী গাবতলী বাস টার্মিনালসহ আশপাশের সড়ক দখলের অবস্থা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে যানজট নিরসনে সড়ক দখলমুক্ত করার আহ্বান জানান। পরিদর্শন শেষে গাবতলী বাস টার্মিনালের খোলা অংশে সংক্ষিপ্ত সভায় মেয়র ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সড়ক দখলমুক্ত করার সময় বেঁধে দেন।
মেয়র উপস্থিত পরিবহন নেতাকর্মীসহ সমবেতদের উদ্দেশ করে বলেন, গাবতলী ও আমিনবাজার রাজধানীর বড় ট্রাফিক জ্যামের জায়গা। রাস্তায় শত শত বাস-ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। বাস-মিনিবাস মালিকরা সবাই কথা দিচ্ছেন যে কয়েক দিনের মধ্যে এই জায়গা পার্মানেন্টলি ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তাঁদের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ ডিসেম্বর থেকে এই এলাকা যানজটমুক্ত ঘোষণা করা হবে। পুলিশ ১ জানুয়ারি থেকে এই সড়ক পরিষ্কারের কাজে নামবে।
সভায় টার্মিনাল শ্রমিক সমিতির আহ্বায়ক মফিজুল হক বলেন, আমরা কথা দিয়েছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাস্তায় পার্কিং বন্ধ করা হবে। সবাই মিলে সড়ক দখলমুক্ত করে যানজট দূর করব। একই সঙ্গে তিনি মেয়রকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন রাখেন, তাহলে আমরা বাস-ট্রাক কোথায় রাখব? তিনি বাস টার্মিনালের জন্য জায়গা বরাদ্দ করতে মেয়রের প্রতি আহ্বান জানান।
মেয়র আনিসুল হক বলেন, আমার দায়িত্ব হচ্ছে রাস্তা যানজটমুক্ত রাখা। বাস-ট্রাক কোথায় রাখবেন সেটা তাঁরা ঠিক করবেন। কোনো শর্ত দিয়ে নয়, আগে রাস্তা খালি করবেন; তারপর আমরা একসঙ্গে বসে একটা ব্যবস্থা করব।
সভায় ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্বাস উদ্দিন, বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি ওবায়দুল্লাহ, আন্তজেলা পরিবহন শ্রমিক নেতা সাদেক আলী তুপান, টার্মিনাল শ্রমিক নেতা হোসেন খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবহন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

