রাজধানীর গুলশানে কূটনৈতিক এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের উপস্থিতিতে এসব স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

প্রথম দিন ইতালি দূতাবাস ও পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনের ফুটপাত থেকে কংক্রিটের ব্লক ও নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। এসময় পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও নিরাপত্তার কথা বলে ফুটপাতগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের অভিযান পরিচালনা করেন সংস্থার কর্মকর্তারা। এ সময় ইতালি দূতাবাসের সামনের ফুটপাত থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। অভিযানকালে ইতালি দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জোসেফ সেমেনজা উপস্থিত ছিলেন।

ফুটপাত থেকে প্রতিবন্ধকতা সরানোর সময় মেয়র আনিসুল হক

ফুটপাত থেকে প্রতিবন্ধকতা সরানোর সময় মেয়র আনিসুল হকএরপর অভিযান পরিচালনা করা হয় ৯০ নম্বর সড়কে। এ সড়কে রয়েছে পাকিস্তান হাইকমিশন। অফিসটির সামনের ফুটপাত থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী স্থাপনা অপসারণ করা হয়। হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব জামিল আখতার তখন সেখানে থাকা ডিএনসিসি মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অভিযান চলাকালে দূতাবাস কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নগরপিতা হিসেবে আমি সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। তাই বলে জনগণ রাস্তা বা ফুটপাত দিয়ে চলতে পারবে না, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘এখানে যেসব দেশ তাদের দূতাবাসের চারপাশে চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছেন, তাদের অনেক দেশের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক কম। কিন্তু তাদের দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাশে আমরা এমন কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিনি।’

গুলশানের ফুটপাতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা

গুলশানের ফুটপাতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতামেয়র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফুটপাত উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ইতালি ও পাকিস্তান দূতাবাস সংলগ্ন ফুটপাত আজ উন্মুক্ত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসও আজকে (মঙ্গলবার) সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, সেখানে অন্যেরা কিভাবে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তা পর্যন্ত দখল করে রাখে!’

মেয়র বলেন, ‘আমরা গত কয়েকমাস ধরে সব দূতাবাসের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছি। তাদের বেশিরভাগই আমাদের সহযোগিতা করছে। তবে কয়েকটি দূতাবাস এখনও আশানুরূপ সহযোগিতা করছে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সম্মত করাতে চাই। এখানে বল প্রয়োগ বা বাধ্য করার কোনও প্রচেষ্টা আমরা নিচ্ছি না। তবে আমি আশাবাদী তারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দেবেন।’

ডিএনসিসি জানিয়েছে, অধিকাংশ হাইকমিশন ও দূতাবাসের সামনে ব্লক ফেলে, চেকপোস্ট বসিয়ে, কিংবা ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক ও ফুটপাত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওইসব সড়ক ও ফুটপাত দিয়ে পথচারীরা চলাচল করতে পারেন না। বিষয়টি অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, জার্মানি ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিজ উদ্যোগে এসব প্রতিবন্ধকতা অপসারণের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএনসিসি।

View Source PDF