তিন মেয়রের বিগত ছয় মাসের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেছেন, বাস্তব অর্থে নগরবাসীর চাহিদার বিপরীতে নগরীর উন্নয়নে মেয়রদের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা জনগণের সম্পৃক্ততার কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ঢাকার দৃশ্যমান উন্নয়নের মধ্যে তেজগাঁওয়ের অবৈধ দোকানপাট ও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হকের একটি বড় সফলতা। অন্যদিকে দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনও গুলিস্তান হকারমুক্ত করাসহ বেশকিছু পরিবর্তন আনতে পেরেছেন। তারা উভয়ই ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। কাজ করছেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছিরও। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব কথা বলেন। মোবাশ্বের হোসেন বলেন, সত্যি বলতে আমাদের মেয়রদের ক্ষমতা অনেক কম। কিন্তু তারপরও তারা থেমে নেই। জনমত গঠনের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তাদের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, তারা অন্যদের গুরুত্ব দিচ্ছেন। জনগণের কাছ থেকে সমস্যাগুলো শনাক্ত করে সেগুলো নিয়ে কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসছেন। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছেন। এমনকি তাদের কাজের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার মতোও সুযোগ থাকছে। এর আগে নগরীর সাধারণ মানুষকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, নগরবাসী এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন না। হয়তো আমরা যারা কাজ করছি তারা বিষয়টি বুঝতে পারছি। আমরা জানি যে, মেয়ররা একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে এগোচ্ছেন। হয়তো এ কারণেই দৃশ্যমান উন্নয়নে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে আমি মনে করি, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য তাদের উচিত তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন করা।
বিশিষ্ট এই স্থপতি মনে করেন, মেয়রের হাতকে শক্তিশালী করতে মহানগর সংশ্লিষ্ট সরকারের ৫৪টি সংস্থা ও সাতটি মন্ত্রণালয়ের আরও বেশি সমন্বয় হওয়া জরুরি। কেননা এসব সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের চেয়ে নগরবাসী তাদের নগরপিতার কাছেই বেশি আসেন এবং বিভিন্ন চাহিদা পূরণের কথা বলেন। আর সে কারণে সবাইকে নিয়ে একটি টাস্কফোর্সের যে প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন মেয়ররা, সরকারের উচিত সে ব্যাপারে সহযোগিতা করা। মেয়রদের আরেকটি বিশেষ দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রথম দেখছি, কোনো মেয়র বিশেষ করে উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক এক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে নগরীর উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন। এটি একটি ইতিবাচক দিক। তিনি আরও বলেন, যানজট, ট্রাফিকসহ এমন অনেক কাজই আছে যা মেয়রের ক্ষমতা কিংবা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু তারপরও মেয়ররা এসব নিয়ে কাজ করছেন। ধানমন্ডি ২৭ থেকে সাইন্সল্যাব পর্যন্ত পাইলট স্কিমের আওতায় দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন এই রাস্তায় এক ব্যাপক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া এই নগরবিদ, আনিসুল হকের গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি, বিলবোর্ড উচ্ছেদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আমাদের একটু তো ধৈর্য ধরতে হবেই। কেননা স্থায়ী উন্নয়নের জন্য তাদের সুযোগ দিতে হবে। মেয়রদের কাছে আমাদের সব সময় সব ধরনের পরামর্শ বা সমালোচনারও স্বাধীনতা রয়েছে। প্রয়োজনে গভীর রাতেও মেয়র আমাদের কথা শুনছেন। সব মিলিয়ে নতুন মেয়রদের কাছে আমরা এখনো আশাবাদী।

