জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা রাস্তার জন্য নগরবাসীর কাছে বিনম্র চিত্তে ক্ষমা চেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। বিগত ৩৫ বছরে সৃষ্ট এই সমস্যা সমাধানে সবার সহযোগিতা ও সময় চান মেয়র। গতকাল রোববার আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) মিলনায়তনে ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত ‘ইয়ুথ পার্লামেন্ট-২০১৫’র অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। সমকাল এ অধিবেশনের মিডিয়া পার্টনার ।

তরুণদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠান হলেও সব বক্তাই সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা ও সড়কের বেহাল অবস্থা তুলে ধরেন মেয়রের সামনে। পিকেএসএফ ভবনের চারপাশসহ আগারগাঁওয়ের রাস্তাগুলোর অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। প্রতিটি রাস্তার পিচ ঢালাই ওঠে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বিকেলের বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে। বক্তারা তরুণদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেয়ে এ বিষয়েই বেশি কথা বলেন।

জবাবে মেয়র জানান, উত্তর সিটির ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার ড্রেনের ৬০০ কিলোমিটারই বন্ধ। তিনি বলেন, ড্রেনে নির্মাণকাজের বর্জ্য ফেলে বন্ধ করা হয়েছে। চলতি বর্ষায় নগরবাসীর দুর্ভোগের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিনম্র চিত্তে দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনারা কষ্ট পাচ্ছেন।’ এসব সমস্যা তার সাড়ে তিন মাসের আমলে সৃষ্টি নয় দাবি করে বলেন, ‘এগুলো সাড়ে তিন মাসে নয়, ৩৫ বছরের সমস্যা।’

রাজধানী থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাকৃতিক পথ নগরের অভ্যন্তরীণ ৪৩টি খাল। ঢাকা ওয়াসার মালিকানাধীন এসব খাল দখল হয়ে গেছে। আনিসুল হক সমন্বয়হীনতায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘খালের মালিক আমি না। আমার পক্ষে ১০০ টাকাও খরচ করা সম্ভব না। খরচ করলে মামলা হবে। জেলে যেতে হবে।’
আনিসুল হক আশ্বাস দেন, আগামী জানুয়ারিতে রাস্তায় ময়লা বর্জ্য ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কমে যাবে। গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, দখলদারদের সঙ্গে মাস্তানি করবেন। গতকাল বলেন, ‘নগরবাসী ও মিডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সঙ্গে মাস্তানি করব। কারওয়ান বাজারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। তাদের সরে যেতেই হবে।’ যানজট নিরসনে কারওয়ান বাজার মহাখালীতে নবনির্মিত আধুনিক বাজারে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা জানান মেয়র। অবশ্য ব্যবসায়ীরা কারওয়ান বাজার ছাড়তে রাজি নন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান। বক্তৃতা করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ করিম, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আনিসুল হক, বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ, উদ্যোক্তা নাভিদ মাহবুব, গণসংহতির সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য এনামুল হক বিজয় প্রমুখ।

শুধু তরুণ নয়, তরুণীদের উন্নয়নের সহযাত্রী করার আহ্বান জানান রাশেদা কে চৌধুরী। বিগত নির্বাচনের মেয়রপ্রার্থী মাহী বি. চৌধুরী জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মেয়রের প্রতি দাবি জানান। একই দাবি জানান ববি হাজ্জাজ। বক্তারা নিজেদের জীবনের নানা প্রতিবন্ধকতা জয়ের গল্প বলে অধিবেশনে অংশ নেওয়া তরুণদের উদ্বুদ্ধ করেন। মেয়র আনিসুল হক জানান, শিক্ষাজীবন শেষে চার বছর বেকার ছিলেন। ব্যবসায় নেমে তিনবার সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তার পরও আজ তিনি সফল। কারণ তিনি সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নাভিদ মাহবুব। অধিবেশনে নৈতিকতা শিক্ষার জন্য ‘বাঙালির পাঠশালা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। ঢাকার ২০টি ওয়ার্ডে পাঠশালার কার্যক্রম চলবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তৃতা করেন ইয়ুথ ফোরামের প্রধান নির্বাহী তানজিয়া নওশিন ও চেয়ারম্যান নয়ন বাঙালি।