আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গুলশান-১ নম্বরের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পাকা মার্কেটের একাংশ খুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ওই মার্কেটের ৩০-৪০টি দোকান খোলা হয়। ডিএনসিসির সিদ্ধান্ত অমান্য করে পাকা মার্কেট খুলে দেওয়ায় এখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় ব্যবসায়ীদের নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আনিসুল হক। গতকাল বিকেলে মার্কেটটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ ছাড়া সন্ধ্যায় মার্কেট পরিদর্শনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে ও কেন এই বিল্ডিং ধসে পড়ল তা আমরা খুঁজে দেখছি। যদি কারও গাফিলতি থাকে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার গভীর রাতে ডিএনসিসি মার্কেটে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুনে মার্কেটটির কাঁচাবাজার অংশটি ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাকা মার্কেট। পুড়ে ছাই হয় পাঁচ শতাধিক দোকান। ঘটনার পর থেকে ব্যবসায়ীরা বলে আসছেন, তাদের উচ্ছেদের জন্যই আগুন লাগানো হয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের মতামতের পর মার্কেটের পাকা অংশটি খোলা হবে কি-না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মেয়র আনিসুল হক। তার এই কথার তোয়াক্কা না করে পাকা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা গতকাল থেকে মার্কেটটি চালু করেন।
মার্কেট-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরাদ্দ হারানোর আতঙ্কেই মূলত তাড়াহুড়া করে মার্কেটটি চালু করা হয়েছে। এ কারণে মার্কেট চালুর উপযোগী না হলেও দোকান খুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
মেয়র আনিসুল হক সাংবাদিকদের আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কোনো সংঘাত নেই। বাইরে
থেকে দেখে মনে হচ্ছে পাকা মার্কেটটি ভালো আছে। তবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ কি-না, তা কেউ বলতে পারছেন না। তিনি বলেন, মার্কেট খোলার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কয়েকটা দিন অপেক্ষা করলে ভালো হতো। কাঁচাবাজারটি সরানোর জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আনিসুল হক বলেন, আপাতত মার্কেটের উত্তর-পূর্ব অংশের মূল সিঁড়ি বরাবর স্টিলের স্ট্রাকচারে কিছু দোকান করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা না হলেও অগি্নকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত করছে ফায়ার সার্ভিস। আলোচনার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কমিয়ে আনার ব্যাপার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে গতকাল জুমার নামাজের পর পাকা মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীরা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। সেখানে পাকা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তালাল রিজভী চলতি মাসের মধ্যেই পুরো মার্কেটের দোকান চালু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পাকা মার্কেটের ২০ শতাংশ দোকান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে অংশ ভালো আছে, তার মধ্যে সামনের দিকের ৪০ শতাংশ দোকানই খুলে দেওয়া হয়েছে।
কাঁচাবাজারের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অনেকে সব হারিয়ে একেবারে পথে বসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি, আমাদের পুনর্বাসন করা হোক।’
গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধসেপড়া ভবন অপসারণের কাজ চলছে। ফায়ার সার্ভিস আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিলেও ধসেপড়া অংশ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, ভেতরের মালপত্রে ধরা আগুন হয়ত এখনও জ্বলছে। এ কারণেই ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।