হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর রাজধানীর গুলশান এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। হামলার সময় থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থায় নাগরিকদের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে এসব এলাকায় নতুন করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস ও বিশেষ রিকশা নামানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। গতকাল বুধবার তাঁর সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়েছে।

গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারা আবাসিক এলাকায় গতকাল চালু হয়েছে নতুন বাস ও রিকশা। এই সার্ভিসের আলাদা একটা বিশেষত্ব রয়েছে। বিশেষ রঙের রিকশা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস নামানোর পাশাপাশি এ এলাকায় নিরাপত্তা প্রহরীও নিয়োগ করা হয়েছে। বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা। দুটি রুটে ১০টি বাস ও চারটি এলাকায় ৫০০ রিকশা নামানো হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট নামানো হবে আরো ১০টি বাস।

বাসগুলো গুলশান পুলিশ প্লাজা কনকর্ড থেকে গুলশান ১ ও ২ নম্বর গোলচত্বর হয়ে বনানী এবং গুলশান নতুনবাজার থেকে শুরু হয়ে ২ নম্বর গোলচত্বর হয়ে বনানী পর্যন্ত চলবে। প্রতি ১০ মিনিট পর পর ৩৫ আসনের এই বাস পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ডিএনসিসির উদ্যোগে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বাস ও রিকশা চলাচল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মেয়র আনিসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমাদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা প্রমুখ।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটির সহযোগিতায় এই বাস ও রিকশা নামানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গুলশানে ২০০, বনানীতে ২০০, বারিধারা ও নিকেতনে ৫০টি করে রিকশা নামানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে খনন করা হবে। একই সঙ্গে খালগুলো দখলমুক্ত করে দ্রুত পানি সরানোর উদ্যোগ রয়েছে।

মেয়র আনিসুল হক বলেন, গত ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর কূটনৈতিক এলাকার সার্বিক পরিবেশ পরিবর্তন করা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টিতে কাজ করা হচ্ছে। বিদেশিদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা রয়েছে তা দূর করতেও চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঢাকা মহানগরের নিরাপত্তায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নিয়মিত ব্লক রেইড ও তল্লাশি করা হচ্ছে। চলছে গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অভিযান। গুলশান এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়িয়ে নাগরিকদের মন থেকে ভীতি দূর করা হচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

View Source PDF