আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকাকে গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে- এ জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে ‘নিয়মিত কর’ চাইলেন তিলোত্তমা ঢাকার দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন। জবাবে ব্যবসার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি- ‘হয়রানি আর চাঁদাবাজি বন্ধে’ দুই নগর অধিপতির হস্তক্ষেপ চাইলেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনিস্টিটিউশন মিলনায়তনে, দেশের শীর্ষ শিল্প ও বণিক ফেডারেশন- এফবিসিসিআই আয়োজিত নব নির্বাচিত দুই মেয়রের সংবর্ধনা সভায় পরস্পরের কাছে এ দাবি জানান তারা।

এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে দুই সিটি মেয়র এফবিসিসিআই-র সহসভাপতি এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুলক হক বলেন, ‘আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকা মহানগরীকে একটি সবুজ নগরী বা ‘গ্রিন সিটি’তে পরিণত করা হবে। ২ বছরের মধ্যে স্থায়ী বর্জ ব্যবস্থাপনাও গড়ে তোলা হবে। তবে যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি- সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমি হয়ত ঢাকা উত্তরকে তিলোত্তমা রূপে গড়ে তুলতে পারব না। তবে একে সুন্দর ও পরিবেশসম্মত নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। ঢাকা দেশের প্রাণশক্তি। তাই এখান থেকেই অর্থনীতি, বিপ্লব এবং স্বাধীনতার ডাক এসেছে। এ জন্য মহানগরীকে আরো সুন্দর করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা আমার আছে।’

এ সময় নিরাপত্তাহীনতাকে ঢাকার বড় সমস্যা- উল্লেখ করে, এর সমাধানে শহরজুড়ে সিসিটিভি বসানোর ঘোষণাও দেন তিনি। পাশাপাশি- পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা দেওয়ার যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সব রকম চেষ্টারও আশ্বাস দেন আনিসুল হক।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘আগামী শবে-বরাতের আগেই পুরনো ঢাকার রাস্তায় ৯০ শতাংশ বাতি আলো দেবে। এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্যমুক্ত নগরী গড়তেও সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করা হবে।’

সিটির সাধারণ নাগররিকদের অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশাসহ যানজট সমস্যার কথা উল্লেখ করে- এ সবের সমাধানে সরকারের সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে একটি ‘প্রশাসনিক সমন্বয় কর্তৃপক্ষ’ গঠনেরও প্রস্তাব দেবেন বলে জানান সাঈদ খোকন।

এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম এ সময় বলেন, ‘এই নতুন প্রজন্মের দুই মেয়রের সঙ্গে ব্যসায়ীদের একটি আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের উদ্যম এবং তারুণ্য ঢাকা মহানগরীকে নতুনরূপ দেবে বলে আমি আশাবাদী।’

উইমেন্স চেম্বার অব কর্মার্সের সভাপতি সেলিমা আহমাদ দুই মেয়রের কাছে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি কমানোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে দুই মেয়রকে কর প্রদানে সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দেন এফবিসিসিআই সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন।

তিনি রাজধানীর প্রতিটি বাজারে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে একটি করে পানির কল স্থাপনেরও দাবি জানান।

এ সময় ব্যবসায়ীদের এসব দাবিকে নিজেদের প্রতিশ্রুতির অংশ উল্লেখ করে- তা সমাধানে সবার সহযোগিতা কামনা করেন দুই নগর অধিপতি।