২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ৮৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল রোববার গুলশানের হোটেল লেকশোরে ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক এ বাজেট ঘোষণা করেন। এর আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সঙ্গে বোর্ড মিটিংয়ে এ বাজেট অনুমোদন পায়। বাজেট বক্তৃতায় মেয়র আনিসুল হক বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। সমস্যার গুরুত্ব বিবেচনা করে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাজেট উপস্থাপনের আগে সূচনা বক্তব্যে আনিসুল হক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছর দুই মাসে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিভিন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ব্যাখ্যা করেন তিনি। এ সময় ডিএনসিসির অন্তর্ভুক্ত আটটি নতুন ওয়ার্ড নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানান মেয়র।
মেয়র হিসেবে নিজের নানা সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, ‘নগরবাসী যদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা না করেন, তাহলে মেয়রকে বেটে খাওয়ালেও ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব না।’ এরপরও লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে আগামী বছর রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য একটি আধুনিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন আনিসুল হক।
বিগত অর্থ বছরের (২০১৫-১৬) বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, ‘গত অর্থবছরে ১ হাজার ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ১০ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৩ শতাংশ। আরও ২০০ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন করা যেত। কিন্তু ঋণের অর্থের সুদ বেশি হওয়ায় সেটা ফেরত দিয়েছেন।’ তবে এবার বাজেট বাস্তবায়নের হার আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন আনিসুল হক।
বাজেট ঘোষণার পর মেয়রের সঙ্গে মঞ্চে বসা ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাউল ইসলাম, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রি. জে. সাঈদ আনোয়ার, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জে. এস এমএম সালেহ ভূঁইয়া এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবাশ্বের চৌধুরী।
গতকাল ঘোষিত বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২ হাজার ৮৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার এই বাজেট বাস্তবায়নে আয়ের উৎস হিসেবে ধরা হয়েছে বিভিন্ন কর, বাজার সালামি, বাজার ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স, সম্পত্তি হস্তান্তর ফি, সড়ক খনন ফিসহ মোট ২৪টি খাত। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় থেকে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৯৪৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া সরকারি অনুদান, সরকারি বিশেষ অনুদান এবং সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে আয় ধরা হয়েছে ৮১১ কোটি টাকা। অন্যান্য খাত থেকে ১৯ কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে বাজেটে ব্যয়ের খাতগুলো হচ্ছে_ বেতন-ভাতা বাবদ ১৩৫ কোটি টাকা, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ ৪৬ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাবদ ৫১ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। সমাপনী স্থিতি রাখা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া আরও কিছু ব্যয়ের খাতও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোল্ডিং ট্যাক্স মূল্যায়ন না করা সম্পর্কে মেয়র বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে কেউ যাতে ট্যাক্স ফাঁকি দিতে না পারে, সেই উদ্যোগ চলবে। মেয়র আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে নগরবাসী একটি পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
Published in: সমকাল, ২৭ জুন ১৬

