ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক রাজধানীতে চার হাজার বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ‘বাস ফ্রাঞ্চাইজি সিস্টেম’ (বিএফএস) চালু করতে চেয়েছিলেন তিনি। এ উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে ডিটিসিএ’কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পরিচালনা পরিষদের দশম সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সংস্থার প্রধানদের নিয়ে কমিটি গঠন করে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল ৭ জানুয়ারি ২০১৮ নগর ভবনে ডিটিসিএ’র সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এই সভা। সভায় প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

এই সভায় রাজধানীতে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া সড়কে সব ধরনের সভা-সমাবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

সভায় জানানো হয়, যানজট নিরসনে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাস ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলায় আনতে হবে। বাস চলাচলের জন্য পৃথক করিডর হবে সড়কে। সরকারি বাস চলবে এতে। বাস পরিচালনায় ‘বাস নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠন করা হবে। দুই করিডরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর্টিকুলেটেড বাস চলবে ১০৫টি।

সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘বাস নেটওয়ার্ক স্টাডি’ করা হয়েছে। রাজধানীর সব সড়ককে ১০টি প্যাকেজের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে স্টাডিতে। সেখানে রুটের সংখ্যা কিছুতেই ৯০-এর বেশি হবে না। এসব রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে যাত্রীসেবা ও মান পর্যালোচনায় সরকারি কোম্পানি ‘বাস নেট’ গঠন করার সিদ্ধান্ত হয় ডিটিসিএ’র সভায়।

ভারতের দিল্লি, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও সিঙ্গাপুরের আদলে ঢাকায় বাস চলাচল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে নির্ধারিত করিডরে বাস চলবে। যেসব মালিক করিডরে চলতে রাজি হবেন না, তাদের বাস অন্যত্র চলবে। করিডরে চলাচলকারী সব বাসকে সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে একই কোম্পানির আওতায় চলতে হবে। এতে বাসের সংখ্যা কমবে, পারস্পরিক প্রতিযোগিতাও থাকবে না; বাড়বে গতি।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বিমানবন্দর থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এবং কুড়িল থেকে পূর্বাঞ্চল সেক্টর-২ পর্যন্ত বাস করিডর চালু হবে।

সভা শেষে ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। বড় বড় রাজনৈতিক দল রাস্তায় মিছিল-মিটিং করার চেষ্টা করবে। এতে যানজট হবে। তাই সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক- কোনো দলকেই রাস্তা বন্ধ করে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দিবসের শোভাযাত্রাও কর্মদিবসে করা যাবে না।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাগুফতা ইয়াসমিন এমপি, ডা. এনামুর রহমান এমপি, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি। এ ছাড়াও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ঢাকার পার্শ্ববর্তী পৌরসভার মেয়র, সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।