নগরবাসীর চলাচল নিশ্চিত করতে রাজধানীতে এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস নামানো হবে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য আলাদাভাবে বাস নামানোর চিন্তাভাবনা চলছে। দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রবিবার রাতে ফেসবুকে নগরবাসীর মুখোমুখি হয়ে এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক।

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের ফেসবুক লাইভ শুরু করার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে।

এ লাইভ চলে রাত প্রায় পৌনে ১০টা পর্যন্ত। নগরবাসীর নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি প্রশংসা পেয়েছেন মেয়র। অনেকে ভালো কাজ করেছেন বলেও তাঁকে সাধুবাদ জানানো হয়।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর গণপরিবহনের শৃঙ্খলা অনেক দৃশ্যমান হবে। চার হাজার বাস নামানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। রুট, কম্পানির সংখ্যা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘সড়ক, ফুটপাত ও অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণ করতে ডিএনসিসির নিজস্ব পুলিশ ফোর্স দরকার। এ জন্য সরকারের কাছে আমরা ১০০ পুলিশ চেয়েছি। ’

গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ কিছু এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা আগে থেকেই করা ছিল জানিয়ে মেয়র বলেছেন, এ কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম আগে করা হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে সব এলাকার উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে। আর একসঙ্গে তো সব এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ জন্য তিনি নগরবাসীকে হতাশ না হওয়ার অনুরোধ জানান।

প্রত্যয় ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, ‘আমার মেয়াদকালের মধ্যে নগরীর সব এলাকার সড়ক, ফুটপাত, ড্রেনেজের কোনো উন্নয়নকাজ বাদ থাকবে না। ’

উত্তরা এলাকায় উন্নয়নকাজের ফলে পানিতে মনুষ্য বর্জ্যের দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আনিসুল হক বলেন, ‘অভিযোগটি নিচ্ছি। তবে এটা হওয়ার কথা নয়। তবু আমরা দেখব। ’

মিরপুরের বাসিন্দা নাছির চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। তবে এটার বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ জন্য আমাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা অনেক উল্লেখ্যযোগ্য সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেছি। ’

অবৈধ দখল সম্পর্কে আনিসুল হক, ডিএনসিসি এলাকার সড়ক ও ফুটপাতের যে মাপ রাজউক বা অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার ম্যাপে রয়েছে, সেভাবে করা হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটা অব্যাহত থাকবে।

বাসাভাড়ার দৌরাত্ম্য রোধে মেয়রের ভূমিকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে মেয়রের কোনো দায়িত্ব নেই। এটার ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি আমাদের অনুরোধ রইল। ’

ধ্রুব হাসান নামের এক নগরবাসীর প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, কোনো সড়কে বর্জ্য ফেলে রাখা হয় বলে তাঁর জানা নেই। সড়কের যত্রতত্র বর্জ্যবাহী গাড়ি পরিষ্কার করা হয়—এটাও জানা নেই তাঁর। তবে খোঁজখবর নিয়ে এমন ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন মেয়র। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে ৬৩টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) করা হয়েছে। আরো কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। জায়গা সংকটে কিছু এলাকায় এটা করা সম্ভব হচ্ছে না। নগরীর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আরো বেশি কিছু সুবিধা দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান মেয়র।

রাজস্ব আয় দিয়ে ব্যয় মেটানো কঠিন, সে কারণে ডিএনসিসিকে সরকারের ওপর নির্ভর করতে হয় জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘হিসাব করে দেখেছি ৩২ শতাংশ কম ইকুইপমেন্ট নিয়ে চালিয়ে নিচ্ছি। ’

View Source PDF