ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকা থেকে অনুমোদনহীন বিলবোর্ড, ব্যানার, সাইনবোর্ড দ্রুত সরিয়ে নেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, জরিমানা, এমনকি ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার গুলশানে ডিএনসিসির নতুন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আনিসুল হক এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, উত্তর সিটি এলাকায় যে সব বিলবোর্ড রয়েছে তার সবই অবৈধ। এক বছরে ২০ হাজার অবৈধ বিলবোর্ড ও ৭০ হাজার ব্যানার-ফেস্টুন উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে শতাধিক মামলাও হয়েছে। এখনও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত আছে। সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএমএম সালেহ ভূঁইয়া, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আনিসুল হক বলেন, গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এক সময় বিলেবোর্ড উচ্ছেদ তো দূরের কথা কেউ এর দিকে তাকানোরও সাহস দেখাতো না। ঢাকা এখন মোটামুটি অবৈধ বিলবোর্ডমুক্ত। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের এক নির্দেশের পর সিটি করপোরেশন এ পর্যন্ত ২০০ বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করেছে। অবৈধ বিলবোর্ডধারীদের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলাও করা হয়েছে। চার বছর আগে হাইকোর্ট এক আদেশে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পাবলিক স্থাপনায় অবৈধ ও বেআইনিভাবে স্থাপিত হোল্ডিং, পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখনসহ সব প্রচার উপকরণ অপসারণে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (উত্তর ও দক্ষিণ) সময় দেওয়া হয়। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট আরেক আদেশে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সে সব অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিল কি-না, তা জানতে চেয়েছেন। আগামী সোমবারের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বাস্তবায়নের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার আদালতের আদেশের জবাব দেবেন জানিয়ে ডিএনসিসির মেয়র বলেন, এখনও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাচ্ছেন। এটাকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তারা স্বেচ্ছায় এসব সরিয়ে না ফেললে উচ্ছেদ করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কাউন্সিলরও অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়েছেন। তাদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, তাদের মধ্যে তিন-চারজন রয়েছেন। তবে তাদেরও অনেক কমে এসেছে। সবার সহযোগিতা পেলে ধীরে ধীরে সবই বন্ধ করা সক্ষম হবে।
এ ছাড়া করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিলবোর্ড থাকবে বলেও জানান মেয়র। বিলবোর্ড নীতিমালার খসড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নীতিমালার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
গত মে মাসে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অবৈধ বিলবোর্ড সরানোর বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়। তিন মাস পরে এখনও আইনি ব্যবস্থায় না গিয়ে কেন নতুন করে অনুরোধ জানানো হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, আইনি ব্যবস্থা চাইলে নেওয়া যায়। এর বদলে শান্তি-সম্প্রীতির মাধ্যমে তা সমাধান করতে চাই। অনুরোধে অনেক কাজ হয়েছে। আশা করছি, কঠোর হতে হবে না।
মেয়র বলেন, ডিএনসিসি বর্তমানে উত্তরা এলাকা নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন যারা উত্তরা যান না তার এখন গেলে চিনতেই পারবেন না। সেখানে গাছ লাগানো হচ্ছে। ২৯ হাজার গাছের মধ্যে ১৫ হাজার লাগানো হয়েছে। এখন নতুন করে ভাবনা_ বাড়ির মধ্যেও গাছ লাগানো হবে। বাড়ির মালিক যে গাছ লাগাতে চাইবেন সিটি করপোরেশন সেই গাছ লাগিয়ে দেবে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ঢাকাকে ক্লিন, গ্রিন ও নিরাপদ রাখা। ইতিমধ্যে ঢাকা অনেক ক্লিন হয়েছে। ৩৬টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪১টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার ই-স্টেশন করা হবে। ইতিমধ্যে ২৫টি হয়েছে। জমি পেলে আরও করা হবে।

