ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে মেয়র পদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়নকে সার্থক প্রমাণ করেছেন আনিসুল হক। বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই ও সার্ক চেম্বারের মতো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে অত্যন্ত সার্থকভাবে পরিচালনা করেছেন তিনি। আনিসুল হকই ঢাকার জনপ্রিয়তম সফল মেয়র ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ আস্থা এবং দেশবাসীর ভালোবাসা আদায়ের মাধ্যমে আনিসুল হক প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ীদের সম্মানিত করে গেছেন। এমন শত শত আনিসুল হক তৈরি হওয়া দরকার, যারা ব্যবসা এবং রাজনীতিতে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কর্মময় জীবন নিয়ে এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা। আনিসুল হককে একজন স্বপ্নবাজ, কর্মচঞ্চল, উদার ও সদাহাস্যোজ্জ্বল মানুষ হিসেবে তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, ব্যবসা, রাজনীতি, সংস্কৃতি জগতে সফল এ মানুষটির জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু আছে।

বিজিএমইএ গতকাল মঙ্গলবার এ সভার আয়োজন করে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংগঠনের

নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হলভর্তি উদ্যোক্তা, শ্রমিক নেতারা আলোচনা শেষে মরহুমের রুহের মাগফেরাত চেয়ে দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, সংস্কৃতি, ব্যবসা সবক্ষেত্রে সফল ছিলেন আনিসুল হক। মেয়র পদে তার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ব্যবসায়ী সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। ব্যবসায়ী হিসেবে সবচেয়ে সফল মেয়র তিনি। আনিসুল হক প্রমাণ করেছেন, ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা রাখলে তার মর্যাদা রাখতে জানেন তারা। ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে এ রকম অনেক আনিসুল হক তৈরি করতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্‌স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশনকে বাসযোগ্য ও আধুনিক হিসেবে তৈরি করতে বিরামহীন চেষ্টা করে গেছেন তিনি। আনিসুল হকের স্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, হঠাৎ ঘুমের মধ্যে বলে উঠতেন, ওটা পরিস্কার করতে হবে, ওটা ভাঙতে হবে। নগরের উন্নয়ন নিয়ে সব সময় ভাবতেন তিনি।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, কোনো ব্যবসায়ী বিপদে পড়লে নিজের ব্যস্ততা বাদ দিয়ে তাকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়তেন আনিসুল হক। দেশের স্বার্থে আনিসুল হকের এ গুণাবলিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে কাজ করাই হবে তাকে স্মরণ কিংবা তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা বলেন, কর্মজীবনে আনিসুল হক ছিলেন একজন আত্মপ্রত্যয়ী, নির্ভীক ও সাহসী।

আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক বলেন, সম্মান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আনিস। ব্যবসায়ী নেতার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার কারণে তিনি এত মানুষের ভালোবাসা এবং এতটা সম্মান পেয়েছেন। তাকে এ সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। রুবানা হক বলেন, লন্ডনের হাসপাতালে চার মাস অজ্ঞান ছিলেন তিনি। এর মধ্যে মাত্র একদিন জ্ঞান ফিরেছিল তার। তাদের আশা ছিল, আনিসুল হক আবার স্বাভাবিক হয়ে দেশে ফিরবেন। কিন্তু তা আর হলো না। তবে কোনো না কোনো আকারে আনিসুল হক আবার ফিরবেন বলে আশা তার। আনিসুল হক স্মরণে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন তিনি। এই ফাউন্ডেশন থেকে শিক্ষা, সংবাদমাধ্যম ও উদ্যোক্তাদের বৃত্তি দেওয়া হবে।

আনিসুল হকের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এফবিসিসিআইর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, তার পরিবার যেন দুঃসহ এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারে। বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, সার্ক চেম্বার ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সব অবস্থানেই নিজেকে সফল প্রমাণ করেছেন তিনি। সব জায়গায় সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড যেমন সরিয়েছেন, তেমনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাড়িও সরিয়েছেন তিনি। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আনিসুল হকের পরিবারের যে কোনো প্রয়োজনে বিজিএমইএ সঙ্গে থাকবে। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, আনিসুল হক ছিলেন এমন একজন ব্যাক্তিত্ব, যিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের জন্যই মানুষ তাকে মনে রাখবে।

বিজিএমএর সাবেক সভাপতিদের মধ্যে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন আতিকুল ইসলাম, আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, এস এম ফজলুল হক, কাজী মনিরুজ্জামান ও কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ। সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।