নিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চুরি বন্ধ এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড, অফিস-আদালত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শপিং মল ও দোকানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) ব্যবহার আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সিসি ক্যামেরার ব্যবহার বেড়েছে। তারা বলছেন, সিসি ক্যামেরা সহজলভ্য হলে এর ব্যবহার আরও বাড়বে। কারণ, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।

পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, দেশের পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশের পোশাক কারখানাগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব হবে অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে সিসি টিভি ক্যামেরাও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ফারুক হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কারখানায় নিরাপত্তার জন্য আগে থেকেই প্রবেশ ও বহির্গমন পথে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। সম্প্রতি দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের পর বিদেশি ক্রেতাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা বিজিএমইএ’র সদস্যদের তাদের কারখানাগুলোয় সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য অনুরোধ করেছি। এ বিষয়ে আগামী বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা করব এবং বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিটি কারখানায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেব।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের অনেক কারখানায়ই সিসি ক্যামেরা আছে। কিছু কারখানায় এ সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। আমরা মনে করি, নিরাপত্তার জন্য প্রতি কারখানায় অন্তত ১০টি সিসি ক্যামেরা থাকা উচিত।’

এদিকে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার পর রাজধানীর ক‚টনৈতিকপাড়ায় নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ক‚টনৈতিকপাড়ার যে অংশ এখনো সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে রয়েছে সেসব জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি গুলশান, বারিধারা ও বনানীর যেসব স্থানে আগে থেকে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল সেগুলো সচল আছে কিনা তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এসব এলাকায় বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা নতুন করে বসানো হয়। ডিএমপির গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, গুলশান-বারিধারায় বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকা সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোসতাক আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ অপরাধ কার্যক্রম ঠেকাতে গুলশান সোসাইটিসহ পুলিশের উদ্যোগে মোট ৭০০ সিসি ক্যামেরা এ এলাকায় লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শতাধিক ক্যামেরা লাগানো আছে। বাকি ক্যামেরাগুলো পর্যায়ক্রমে লাগানো হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ এলাকায় বসবাসকারীদের বাসার ভিতরে না লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ভবনে এগুলো লাগানোর পরামর্শ দিয়েছি।’

এদিকে ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ কেপিআইভুক্ত ৯টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২৬ জন বিদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিনের নির্দেশে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চুরি ঠেকাতে এবং নিরাপত্তা জোরদারে রেলওয়ে কারখানাগুলোয়ও সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এ জন্য কারখানার প্রধান ফটকসহ সব কটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। জানা যায়, কারখানার লোহা বেচাকেনার ঘটনা প্রতিরোধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি এ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে শ্রমিকদের কাজের গতিবিধির ওপর নজর রাখা ও শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকানো সম্ভব বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মনে করে।

অন্যদিকে নগরীর ওয়ানস্টপসহ বিভিন্ন শপিং মল এখন সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। রাজধানীর শপিং মল মীনা বাজার, আগোরা, স্বপ্নতে ক্রেতাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরার ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি বর্তমানে নগরীর ছোটখাটো ডিপার্টমেন্ট স্টোরেও সিসি ক্যামেরার ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেরও নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের প্রবেশপথ ও ক্যাশ বুথের সামনে সিসি ক্যামেরা চোখে পড়ে। একইভাবে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথেও সিসি ক্যামেরার ব্যবহার হচ্ছে।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিকদের নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতি ওয়ার্ডের জন্য ১০টি সিসি ক্যামেরা বরাদ্দ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক জানান, সিসি ক্যামেরা থাকলে অপরাধী শনাক্ত করতে যেমন সুবিধা হবে তেমনি এতে প্রতিটি ওয়ার্ডে অপরাধের পরিমাণ কমে যাবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আনিসুল হক বনানী, বারিধারা, গুলশান ও নিকেতনের জন্য ৭ কোটি এবং ডিএনসিসির অন্য এলাকার জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দেন।

View Source PDF