ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেছেন,ভূমিকম্পের যেহেতু পূর্বাভাস নেই,সেহেতু এর ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।ভূমিকম্পসহ সব ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলায় পরিবারসহ সর্বস্তরে প্রস্তুতি নিতে হবে।ঢাকা উত্তরের প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত ২০০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মেয়র জানান,ঢাকার দুই সিটি ও সিলেট সিটি করপোরেশনে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ৭৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০ কোটি টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি কেনা হবে দুই বছরের মধ্যে।

রাজধানীর গুলশানে স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে ‘ভূমিকম্প মোকাবেলা: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র এসব কথা জানান।বেসরকারি ‍উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও সিপ-এর সহযোগিতায় সোমবার এ কর্মশালার আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

কর্মশালায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন্স) মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন,ঢাকা শহরের ৬৫ শতাংশ অঞ্চল ভূমিকম্পের মারাত্মক ঝুঁকিতে। যদিও ৩৫ শতাংশ এলাকার মাটি শক্ত। এখানে নির্মিত ভবনগুলো কিছুটা ভূমিকম্প সহনশীল। তিনি বলেন,ঢাকার অনেক জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনগুলোর কারণে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন,অনেক ভবন নির্মাণকালে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। এসব অনিয়ম ভূমিকম্পের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শাকিল নেওয়াজ বলেন,ভূমিকম্পে মানুষ মরে না। মানুষ মরে মানুষের তৈরি অব্যবস্থাপনার কারণে।ভূমিকম্পের বিপর্যয় মোকাবেলায় বিল্ডিং কোড মেনে ভবন তৈরি করতে হবে। ঢাকার ৭৬ শতাংশ সড়ক সরু।এগুলো প্রশস্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা হলেও প্রশিক্ষণের পর তাদের দেখভালের কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে জরুরি মুহূর্তে তাদের সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের শিক্ষক মাকসুদ কামাল বলেন,এ অঞ্চলে যে কোনও সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম,প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সেনায়েত গেব্রেজেবিয়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।এছাড়া বেশ কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরও এতে অংশগ্রহণ করেন।

View Source PDF