ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে দেওয়া হয়েছে উপমন্ত্রীর মর্যাদা। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
তবে প্রজ্ঞাপনে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মেয়রদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে ডিএনসিসির মেয়র হলেন আনিসুল হক এবং ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আছেন সেলিনা হায়াত আইভী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সরকার এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে নিজ নিজ পদে থাকাকালীন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মন্ত্রীর এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র বেগম সেলিনা হায়াত আইভী উপমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। ’
মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার দুই মেয়র সাঈদ খোকন এবং আনিসুল হকের মর্যাদা বৃদ্ধি করে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেক এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে জানান, ‘নতুন এই পদমর্যাদা ব্যক্তি আনিসুল হক ও ব্যক্তি সাইদ খোকনের ক্ষেত্রে তত দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে যত দিন তাঁরা এ পদে বহাল থাকবেন। এটা তাঁদের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সম্মান। সিটি মেয়র হলেই পরবর্তীতে যে অন্য মেয়ররাও মন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন তা কিন্তু নয়। ’
দেশে বর্তমানে ১১টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অন্য সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনে বেশির ভাগই বিএনপি সমর্থক মেয়র নির্বাচিত হন। ওই মেয়রদের বেশির ভাগই এখন বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত, কেউ কেউ জেল খাটছেন। ফৌজদারি মামলায় আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করায় এরই মধ্যে খুলনা, গাজীপুর, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
গত বছরের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে আনিসুল হক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সাঈদ খোকন নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করেন সেলিনা হায়াত আইভী।
নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময়েও সরকার এ মেয়রদের কোনো মর্যাদা নির্ধারণ করেনি। অন্য মেয়রদেরও মর্যাদা নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেয়রদের পদমর্যাদা ঠিক না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে মেয়রদের প্রটোকল নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তাঁরা কোথায় বসবেন তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
সিটি করপোরেশন আইনে মেয়রদের পদমর্যাদা বিষয়ে কিছু বলা নেই। তাই সরকারগুলো নিজেদের মতো করে পদমর্যাদা নির্ধারণ করে দেয়। এরশাদ সরকারের আমলে ঢাকার মেয়র হিসেবে নাজিউর রহমান মঞ্জুরকে প্রথম প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ আমলের দুই মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও মোহাম্মদ হানিফ পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন। তত্কালীন সরকার এক নির্বাহী আদেশে তাঁদের মর্যাদা নিশ্চিত করেন। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পর এত দিন দুই মেয়রের পদমর্যাদা সুনিশ্চিত করা হয়নি।
পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়ার পর ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এবং ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হকের গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগানো হয়েছে। সাঈদ খোকনের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে লোগো সংবলিত নিজস্ব পতাকা নামিয়ে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে দেন নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নগর ভবনের নিচে মেয়রের গাড়ি পার্কিংয়ে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। এদিকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সাঈদ খোকন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি কাউন্সিলরদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন।

