নোয়াখালীর কৃতি সন্তান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশানের মেয়র আনিসুল হকের অকাল মৃত্যুর সংবাদ তার দেশের বাড়ি নোয়াখালীর সাধারণ মানুষও মেনে নিতে পাচ্ছে না। তার মৃত্যু সংবাদ মধ্যরাতে শোনার পর তার পৈত্রিক নিবাস নোয়াখালীর কবিরহাটসহ পুরো জেলায় শুক্রবার দিনভর ছিল এই কৃর্তীমান পুরুষকে নিয়ে আলোচনা। কবিরহাট পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ব ঘোষবাগ গ্রামের মিয়া বাড়িতে দিনভর সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে পড়ে। যদিও বাড়িতে তাদের নিকট আত্মীয়স্বজনসহ অন্যরা না থাকলেও মানুষ কৌতুহল হয়ে আদৌ তাদের কৃতি সন্তানের মৃতদেহ আনা হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়।

তবে এলাকাবাসীসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষের গণদাবি হচ্ছে অন্ততঃ নোয়াখালীতে তার একটা নামাজে জানাজা হলে মানুষ তার জন্য দোয়া করতে পারতো। এক নজর তাকে শেষবারের মতো দেখতে পেত। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে তার মরদেহ তার পৈত্রিক নিবাস নোয়াখালীতে আনা হবে না বলে জানানো হলে সাধারন মানুষ আশাহত হয়ে পড়ে।

কবিরহাট পৌরসভার মেয়র ও কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক রায়হান জানান শুধু আমরা নই নোয়াখালীবাসী তাদের একজন অভিভাবক হারিয়েছে। মাত্র ৯ মাস আগে কবিরহাট বাসী পক্ষ থেকে স্থানীয় কবিরহাট হাই স্কুল মাঠে লাখো জনতা তাকে সংবর্ধনা জানায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশানের মেয়র পদে নির্বাচিত হবার জন্য। তিনি সেদিন বলেছিলেন আমি গর্বিত আমি এ মাটির সনত্মান হয়ে আজ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশানের মেয়র হয়েছি। সে জন্য কবিরহাটের জনগণও এ গর্বের অংশীদার। কিন্তু আজ খুব অসময়ে আমরা তাকে হারিয়েছি, দেশ হারিয়েছে এক অনন্য প্রতিভাকে। স্থানীয় মানুষের দাবি ছিল তাকে এক নজর দেখা এবং নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়া, তা সম্ভব না হলেও এলাকার প্রতিটি মসজিদে তার জন্য দোয়া করা হয়েছে।

নোয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী শুক্রবার সকালে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নোয়াখালী জেলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে মরহুম আনিসুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন তার মতো একজন নেতাকে আমরা হারিয়ে নোয়খালীর একজন তারকাকে হারালাম। একজন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মেয়র যেভাবে গ্রিন ঢাকা তৈরি করে নগরবাসীকে স্বস্তি দিচ্ছিলেন এটি কারো পক্ষে সম্ভব হতো না।

নোয়খালী জেলা বিএনপির সভাপতি এ জেড এম গোলাম হায়দার বিএসসি জানান তিনি ছিলেন দল মতের ঊর্ধ্বে। তিনি এফবিসিসিআই’র সভাপতি থাকাকালে সারা বাংলাদেশে সকল চেম্বার অব কমার্স নুতন ভবন তৈরি করে দেন যার কারণে নোয়াখালী চেম্বারও ভবন করার অর্থ পায়। তিনি যেখানে গিয়েছেন সেখানেই আলোকিত করেছেন। তার মৃত্যু সত্যিই একটি নক্ষত্রের পতন ঘটেছে।

নোয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক জানান, তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন না ছিলেন সফল শাসকও। সর্বত্র তার হাতের পরস রয়েছে। তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। তার অভাব পূরণ হবার কথা নয়।

নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্লাহ খাঁন সোহেল জানান, তার মৃত্যু একটি সম্ভাবনার অকাল মহাপ্রয়ান। দেশ তার মেধা মনন সবকিছু থেকে বঞ্চিত হবে। নোয়াখালী জেলা হারিয়েছে তাদের সূর্য সন্তানকে, এ ক্ষতি অপূরণীয়।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মাহবুবুল আলম তালুকদার জানান, একজন সফল মানুষ ছিলেন আনিসুল হক। ব্যবসা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি সবকিছুতেই তার সফলতার ছাপ রয়েছে।

আনিসুল হকের চাচাতো ভাই রেজাউল হক শাহীন জানায় নোয়াখালীবাসী দাবি ছিল নোয়াখালীতে এনে তার নামাজে জানাজা করার কিন্তু বিভিন্ন কারণে সম্ভব হয়নি। মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি এটি বিরল, তার পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের নিকট ক্ষমা চাচ্ছি।

View Source PDF