তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ঘুম নেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী ব্যবসায়ী আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকের। একই অবস্থা তাঁর দুই সন্তান তানিশা ফারিয়ামান ও নাবিদুল হকের। রুবানা হক মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেও স্বামীর নির্বাচনী প্রচারণাই এখন তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। বিরামহীন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।
যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। আনিসুল হকের ছেলেমেয়েরাও পিছিয়ে নেই। তাঁরাও ব্যস্ত গণসংযোগে। প্রচারণায় কখনো মিরপুর, কখনো মোহাম্মদপুর। সকালে বাড্ডায় থাকলে রাতে গুলশানে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ‘উত্তরের বাড়িটি’ পরিকল্পিতভাবে সাজানোর। আর চাইছেন মানবিক নগরী গড়ার কাজে আনিসুল হকের জন্য পাঁচ বছরের সময়। রুবানা হক ও তাঁর দুই সন্তানের প্রতিশ্রুতি এবং কাছে পেয়ে ভোটাররাও আবেগে তাঁদের আপন করে নিচ্ছেন, মাথায় হাত ছুঁয়ে দোয়া করে দিচ্ছেন। একইভাবে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের হয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভোটের জন্য ছুটছেন মা নাসরিন আউয়াল। তাবিথ এক জায়গায় গেলে মা যাচ্ছেন অন্য এলাকায়। দিন-রাত বিএনপির নেতা-কর্মী এবং ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন তিনি। শুধু আনিসুল হক আর তাবিথ আউয়ালের পরিবারই নয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশির ভাগ মেয়র প্রার্থীর স্বজনদের চোখে এখন ঘুম নেই। চালাচ্ছেন বিরামহীন প্রচারণা। আর সাত দিন পরই নির্বাচন। তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রার্থীরাও এখন নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
দক্ষিণ সিটির বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাস একাধিক মামলায় জড়িয়ে এখনো প্রচারণায় নামতে পারেননি। তবে একটুও পিছিয়ে নেই তিনি। তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস নগরীর অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন। ঘুম নেই, খাওয়া-দাওয়াও ঠিকমতো হচ্ছে না। স্বামীকে বিজয়ী করতে যেন যুদ্ধে নেমেছেন তিনি। সমস্যামুক্ত আধুনিক নগরীর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের। আওয়ামী সমর্থিত সাঈদ খোকনের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ফারহানা সাঈদও প্রচারণায় তুমুল ব্যস্ত এখন। পুরান ঢাকার অলিগলিতে প্রতিদিন যাচ্ছেন স্বামীর জন্য ভোট চাইতে।
গত শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন আনিসুল হকের মেয়ে তানিশা ফারিয়ামান। রাজধানীর নিকেতনে ডা. ফজলে রাব্বী পার্কে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে বাবার জন্য ভোট চাইতে দেখা যায় তাঁকে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন জানতে চাইলে তানিশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেখানেই যাচ্ছি, বেশ সাড়া পাচ্ছি। বাবাকে ঘড়ি মার্কায় ভোট দেবেন বলে ভোটাররা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। ‘ তানিশা বলেন, ‘আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সেগুলো একটি একটি করে বাস্তবায়নে বাবাকে সহযোগিতা করব। পাঁচ বছরের জন্য আমাদের বাবাকে নগরীর মানুষের সেবার জন্য ছাড় দেব। ‘ রুবানা হক বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের কাছে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছি। খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো হয় না, ঘুমও নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আনিসুল হককে ভোটাররা গ্রহণ করেছেন। যেখানে যাচ্ছি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে উত্তরকে মানবিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে স্বামীর পাশে থেকে কাজ করে যাব। ‘
গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের বাবর রোড ও জহুরি মহল্লায় ভোট চাইতে গিয়ে নাসরিন আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুব অবাক এবং খুশি হচ্ছি। যেখানে যাচ্ছি সেখানেই ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। এমন একজনও পাইনি যিনি বলেছেন, না আপা, আপনার লিফলেট নেব না। ভোটাররা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করার। আমার ছেলে বিজয়ী হলে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলবে ঢাকা উত্তরকে। ‘
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর দাবি জানিয়ে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার দাবি করছে, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, আমরাও তাই চাই। তাই কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হোক, যাতে সবাই দেখতে পায় কেমন নির্বাচন হচ্ছে। ‘ মির্জা আব্বাসের জনপ্রিয়তায় সরকার ভীত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ জন্যই সরকার উনাকে জামিন দিচ্ছে না। আমার প্রচারণাতেই জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তাহলে উনি থাকলে কী হতো বুঝতেই পারছেন। ‘
সাঈদ খোকনের স্ত্রী ফারহানা সাঈদ বলেন, ‘আমার শ্বশুর প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ঢাকাবাসীর জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমার স্বামী এবার সেই পদে লড়ছেন। তাঁর জন্য ঢাকাবাসীর দোয়া ও ভোট চাই। ‘ তিনি ঢাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সাঈদ খোকনকে একবারের জন্য ইলিশ মাছ মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিন। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তিনি আপনাদের পাশে থাকবেন। ‘

