রাজধানীর যানজট নিরসনে কার্যত মেয়রের কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। মেয়রের একবছর পূর্তিতে বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি’র শুরুতেই তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনাকালে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিনের এক বক্তব্যের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘যানজট নিরসনে মেয়রের আসলে তেমন কিছু করার নেই। এটা দেখার কথা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও রাজউকের। আমরা যেটুকু করতে পারি সেটা হচ্ছে- রাস্তা পরিষ্কার। আমরা সেটা করেছিও। এর সুফলও ভোগ করছে জনগণ। বর্তমানে যে কয়েকটি রাস্তায় খুব দ্রুততম সময়ে যাওয়া যাচ্ছে, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের কারণেই সেটা সম্ভব হয়েছে।’
আগামী মাসে হলিডে মার্কেট চালু করা হলেই রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত হবে বলে মন্তব্য করেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘রাজধানীর জনসংখ্যা সমস্যার কারণে চাইলেই এটাকে উন্নত শহরগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনায় আনা যাবে না। এ শহরে প্রতিদিন বর্জ্যই তৈরি হয় সাড়ে তিন হাজার টন এবং মানুষ সেটা শৃঙ্খলার সঙ্গে ফেলে না।’
বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি’তে অতিথিরা
ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে আমরা হলিডে মার্কেট শুরু করতে যাচ্ছি। জুন থেকেই শুরু হয়ে যাবে। এটা শুরু করা গেলেই ফুটপাত দখলমুক্ত হবে।’
ফুটপাত কেন দখলমুক্ত হচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ৪৯ বছর কেউ না কেউ এসব নিয়ে কাজ করেছেন। কেন হয়নি জানি না। আর আমি দায়িত্ব নিয়েছি একবছর। আমার শহর পুরোনো শহর। এই শহরের বাস্তবতা মাথায় রেখে কাজগুলো করা হবে।’
আলোচনাকালে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিন ফুটপাতে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করায় মেয়রের প্রতি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘ময়লা ফেলার জায়গা করে দেওয়ায় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বার্তা পৌঁছাচ্ছে যে, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা যাবে না। এটা আগামীতে ভালো শহর তৈরি করবে। তবে যানজটে মেয়রেরও করণীয় আছে- সেখান থেকে নগরবাসী মুক্তি পায়নি এখনও।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ছাড়াও মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে উপস্থিত আছেন, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিন, সিক্স সিজনস হোটেলের পরিচালক কাজী আকিব শামস, স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও স্থপতি খন্দকার আনসার হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রভাষ আমিন, বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান ও বাংলা ট্রিবিউনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জুলফিকার রাসেল। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে একাত্তর টেলিভিশন।


