একইভাবে নগরীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালÑ ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পঙ্গু হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাথ দখল করে ওষুধের দোকান, পোশাক, ফলের দোকান, খাবারের দোকান ও বিভিন্ন চিকিৎসা-যন্ত্রপাতিসহ ব্যবসায়ীদের নানারকম পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়। এতে হাসপাতালের সামনের ফুটপাথ দিয়ে আসা রোগী ও তার স্বজনদের যাতায়াতে সমস্যা হয়।
এমনকি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের হাঁটাপথও ব্যবসায়ীরা দখলে নিয়েছেন। ঢাকার বেইলি রোডে ভিকারুনন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে দিনভর নানা রকম খাবার, পোশাকসহ যাবতীয় পণ্যের অস্থায়ী দোকান বসে। শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনের ফুটপাথ দখল করে কাচের চুরি, মেয়েদের প্রসাধনী পণ্য এবং চটপটিসহ নানা রকম খাবার বিক্রেতাদের বসতে দেখা যায়।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্করে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সামনের হাঁটাপথটিও দীর্ঘদিন ধরে পোশাক ও জুতা বিক্রেতারা দখলে রেখেছেন। এদের উচ্ছেদ করা হলেও কিছুদিন না যেতেই আবার তারা সেখানে দোকান বসান। উচ্ছেদের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের এ ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা নেই।
রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক ফার্মগেটের ফার্মভিউ মার্কেটের আশপাশের ফুটপাথটিও একটি সিন্ডিকেট বছরের পর বছর দখলে রেখেছে। এতে একদিকে যেমন সেই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয় অন্যদিকে ফার্মগেটে বিভিন্ন পেশাগত কাজে আসা মানুষ ও কোচিং করতে আসা শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও হকার নেতাদের যোগসাজশে রাজধানীর ফুটপাথ বাণিজ্য চলছে। অবৈধ দখলদাররা যাতে আবার ফুটপাথ দখল করতে না পারে তার জন্য প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। আর ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক সম্প্রতি এক গোলটেবিল আলোচনায় বলেন, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা তত সহজ নয়। যারা এখানে দোকান বসাচ্ছেন তারা টাকা দিয়েই বসছেন। এর পেছনে রয়েছে ‘শক্ত হাত’। আনিসুল হক আগামী এক মাসের মধ্যে ঢাকার দোকান মালিকদের নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে ফুটপাথ ও সড়কের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। আর এই সময়ের মধ্যে কেউ মালামাল না সরালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

