রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর, যানজট নিরসনে রাস্তা দখলমুক্তসহ নানা সমস্যা সমাধানে সমন্বিত ব্যবস্থা থাকা দরকার বলে মনে করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেন, ঢাকার যেসব সমস্যা রয়েছে, তার সমাধান করা সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, শুধু জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের সঙ্গে ১৪টি সরকারি সংস্থা জড়িত।

তাছাড়া অনেক প্রভাবশালী, মাস্তান সড়ক দখল করে রেখেছে। রাস্তা দখলমুক্ত করতে হলে তাদের সঙ্গে মাস্তানিও করতে হবে। সেজন্য সবার সমর্থন চাইলেন মেয়র আনিসুল। রাজধানীতে জলজট, যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার মুখে গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ডিআরইউ আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলেন মেয়র আনিসুল হক। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন।

মেয়র আনিসুল হক বলেন, যানজট, অবৈধ বিলবোর্ড থেকে শুরু করে যেসব সমস্যা নাগরিকদের কষ্ট দিচ্ছে, তা সমাধান করতে হলে নগর সরকার ধরনের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা থাকতে হবে।

তা হলে নগর সরকার চান কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ঢাকা শহরের সমস্যা সমাধান করতে হলে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা দরকার। তবে তিনি নগর সরকারের কথাই বলছেন না; এমন একটি ব্যবস্থাপনা জরুরি, যার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এসব সমস্যা সমাধান করতে পারে। কারণ, নগরীর যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে গেলেই তাকে অন্য সংস্থার সহযোগিতা নিতে হয়।

ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন কাজের সঙ্গে ১৪টি সংস্থা সম্পৃক্ত। খাল উদ্ধারের দায়িত্ব জেলা প্রশাসক ও ঢাকা ওয়াসার। এসব খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হতে না পারলে জলাবদ্ধতাও দূর হবে না।

খাল বেদখল ও ভরাট হওয়া প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, একটি এলাকার খাল তিনি নিজে থেকে পরিষ্কার করেছিলেন। কয়েকদিন আগে গিয়ে দেখেন, পাশের শত শত দোকানি ও বাসিন্দারা সেই খালের ভেতরে ময়লা ফেলে খালটা আবার বন্ধ করে দিয়েছেন।

যানজট নিরসন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এই কাজটিও পাঁচটি সংস্থার অধীনে। ঢাকা শহরে দুই থেকে তিন লাখ গাড়ি চলতে পারে। কিন্তু গাড়ি আছে ১১ লাখ। ওই গাড়ির অনুমতি দিচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আর সড়কে যান চলাচল ব্যবস্থাপনা করে ট্রাফিক পুলিশ। তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ড সরানোর চেষ্টা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেজগাঁও এলাকায় কোনো প্রসূতি মাকে হাসপাতালে নিতে গেলে ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে বের হতে হতেই তার মৃত্যু হতে পারে। তিনি সম্প্রতি গিয়ে রাস্তাটি মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেখানে অনেক প্রভাবশালী রাস্তার জায়গা দখল করে রেখেছেন। মাস্তানরা দোকান বসিয়েছে। আনিসুল হক বলেন, ‘রাস্তা দখল করে ট্রাক রেখে দিয়েছে, মাস্তানি করে। আমি কি এখন তাদের সঙ্গে মাস্তানি করব? ওই মাস্তানদের দূর করতে উল্টো মাস্তানি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ব্যবসায়ী মানুষ, তবে মাস্তানি করতেই এখানে এসেছি। সেই মাস্তানি করতে হলে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

রাজধানীকে বিলবোর্ডমুক্ত করে গ্রিন ও ক্লিন ঢাকা গঠন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বিলবোর্ডের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার জন্য পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, বিলবোর্ড ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা নীতিমালা তৈরির কাজ করছেন। এটা চূড়ান্ত হলেই বোঝা যাবে কোথায় বিলবোর্ড থাকবে আর কোথায় থাকবে না।

কারওয়ান বাজার স্থানান্তর প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, মহাখালী, আমিনবাজার ও যাত্রাবাড়ীতে অতি উন্নত মানের তিনটি মার্কেট তৈরি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা ওইসব মার্কেটে তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিতে রাজি আছেন।

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেহাল অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীর কোথাও বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ট্রান্সফার স্টেশন নেই। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সেবা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মিটিং করে ৬০টি জায়গায় তিনি ট্রান্সফার স্টেশন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিদিন ডিএনসিসি এলাকায় ২৬০০-২৮০০ টন বর্জ্য জমা হয়। আগামী বছরের মধ্যে ট্রান্সফার স্টেশন নির্মিত হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন উঠবে না।

রাজধানীর ২৯টি ওয়ার্ড সরেজমিন ঘুরে দেখার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মেয়র বলেন, পাঁচ লাখ দোকানদার প্রতিদিন রাস্তায় ময়লা ফেলেন। জনসচেতনতা না বাড়লে এটা বন্ধ হবে না। আগামী কোরবানি ঈদের সময় নগরবাসী যাতে যত্রতত্র পশু কোরবানি না দেন, সে জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।