শপথ নেওয়ার পর বুধবার দুপুরে একবার গুলশানে নগর ভবন ঘুরে গিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আনিসুল হক; যদিও বেশিক্ষণ ছিলেন না। আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস শুরু করবেন- এমন খবরে তাই গতকাল সকাল থেকেই নগর ভবনে ছিল সাজ সাজ রব। এমনিতে সচরাচর সকাল ১১টার আগে বেশির ভাগ কর্মকর্তা কার্যালয়ে আসেন না। তবে গতকাল সেবাগ্রহীতারা এসে দেখেন সকাল ৯টার আগেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাজির হয়েছেন নগর ভবনে।

সবার চোখেমুখে ব্যস্ততার ছাপ। নতুন মেয়রের জন্য পাতা ছিল লাল গালিচা। তাঁর জন্য বরাদ্দ করা গাড়িটাও ধুয়েমুছে চকচকে করে রাখা ছিল। তার পরও গামছা দিয়ে সেটি পরিষ্কার করছিলেন চালক চান মিয়া।
তবে নতুন মেয়র অবশ্য গতকাল নগর ভবনে যাননি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন আগামী রবিবার।

নতুন মেয়র কেমন হবে- তা নিয়েও চলছে ব্যাপক আলোচনা। নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশ্বাস, নতুন মেয়রের হাত দিয়েই পরিবর্তন সূচিত হবে। গাড়িচালক চান মিয়া বললেন, ‘আমরা একজন যোগ্য মেয়র পাইছি, টেলিভিশনে উনার অনেক ভালো ভালো কথা শুনেছি, বুধবার উনারে সামনে থেকে দেখেছি। ‘ পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার আমিরুল ইসলাম বললেন, ‘প্রতিদিন কোনো না কোনো ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্যাররা এখানে আসতেছেন। সবার মধ্যে আনন্দ কাজ করছে। এই স্যারই পারব নগরীর উন্নতি করতে। ‘

গতকাল সিঁড়ি বেয়ে নগর ভবনের দোতলায় উঠতেই চোখে পড়ে লাল গালিচা। তিনজন মিলে পরিষ্কার করছিলেন। তাঁদের একজন আসলাম মিয়া বললেন, ‘প্রশাসক স্যারের রুমেই নতুন মেয়র স্যার অফিস করবেন। রুমটি পরিষ্কার করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন বাইরে একটু ঘষামাজা করা হচ্ছে। ‘ আরো একটু ভেতরে যেতেই নতুন মেয়রের কক্ষের পাশেই পাওয়া গেল তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু সালেহকে। বললেন, ‘স্যারের রুমটি প্রস্তুত করা হয়েছে, আশপাশের ময়লা-আবর্জনাও পরিষ্কার হচ্ছে। ‘

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বললেন, ‘কয়েক দিন আগেও এখানে ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরই দাপট বেশি ছিল। সেই তাঁরা এখন আতঙ্কে আছেন। এখন যারা নগর ভবনে আসছে তারা কোনো ঘুষ না দিয়েই কাজ করিয়ে নিচ্ছে। উনাকে (আনিসুল হক) মেয়র হিসেবে পেয়ে আমাদের মতো কিছু কর্মকর্তা এখন মাথা উঁচু করে কাজ করতে পারবে। ‘

ঢাকা উত্তরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন দুপুর দেড়টার দিকে নগর ভবন থেকে হাসিমুখে বের হয়ে যাওয়ার সময় বললেন, ‘নতুন মেয়র আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব না নেওয়ার আগেই মনে হচ্ছে নগর ভবনের সব কর্মকর্তাই সোজা হয়ে গেছে, বিশেষ করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। এর আগে লাইসেন্সসংক্রান্ত একটি কাজে এসে অনেক ঘোরাঘুরি করলেও পাইনি। কিন্তু গত চার দিনে সেই কাজ হয়ে গেছে। ‘

মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড থেকে এসেছিলেন মেজবাহ উদ্দিন আহামেদ। তিনি বললেন, ‘নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচার-ব্যবহার হঠাৎ যেন বদলে গেছে, আমার কাজটি দ্রুত শেষ করে দিয়েছেন। এমনভাবে চললে আর সেবাগ্রহীতাদের হয়রান হতে হবে না। ‘

উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন মেয়র আসার পর করপোরেশনে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে নগরবাসীর সমস্যা সমাধানের। ‘

জানা গেছে, আগামী ১৪ মে উত্তর সিটি করপোরেশনে বিশেষ বোর্ড সভা হবে। ওই বৈঠকের পর মেয়র আনিসুল হকের পাঁচ বছর মেয়াদের ক্ষণ গণনা শুরু হবে।

View Source PDF