আগামী ৩০ মে’র মধ্যে সড়ক দ্বীপ, ডিভাইডার, ফুটওভার ব্রিজ, দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে লাগানো ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেন, এই সময়ে মধ্যে না সরালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবার রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান কার্যালয় নগরভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।
আনিসুল হক বলেন, পরিবেশবান্ধব স্মার্ট ঢাকা গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনবিষয়ক একটি নীতিমালা রয়েছে। কেউ প্রচারণা চালাতে চাইলে এই নীতিমালা অনুসরণ করতে পারেন। এই নীতিমালার বাইরে কাউকে পোস্টার-ব্যানার লাগিয়ে পরিবেশ নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চেষ্টা করছি নগরীকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে। রাজনৈতিক নেতারা আমাকে শুরু থেকেই সহযোগিতা করছেন। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন খুবই দৃষ্টিকটূভাবে লাগানো হয়েছে। এভাবে নগরীকে শ্রীহীন করে তোলা হচ্ছে।
শনিবার জাতীয় পার্টির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ব্যানার, পোস্টারে ছেয়ে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, আমরা ঢাকা নগরী সুন্দর করতে অনেক কাজ হাতে নিয়েছি। শোভাবর্ধনের জন্য ফুটওভার ব্রিজে গাছ লাগিয়েছি। অথচ তার ওপর ব্যানার লাগানো হয়েছে। দেয়াল পরিষ্কার করে রং করেছি, তার ওপর পোস্টার মারা হয়েছে। এমনকি গাছের গায়ে, ফ্লাইওভারের পিলারে পোস্টার মারা হচ্ছে। এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
এ সময় আনিসুল হক জানান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গত সিটি নির্বাচনে দক্ষিণের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করার জন্য রাজধানীর একটি থানায় গিয়েও ফিরে এসেছেন। থানার মামলা নেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় তারা ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে যেতে বলেছেন বলে তিনি জানান।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, রাজনৈতিক নেতারা সমাজের মডেল হবেন, অথচ তারাই যদি গাছ, দেয়াল, ভবনে ব্যানার পোস্টার লাগান তা হলে জনগণের কাছে কী মেসেজ যাবে?
১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ব্যানার, ফেস্টুন লাগাতে অনুমতি নিয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজনীতিবিদরা ব্যানার, পোস্টার বা ফেস্টুন না সরালে যেসব নেতা এসব করেছেন, আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) নিয়ে তাদের বাসায় যাব। তাদের কাছে জানতে চাইব, কোন ক্ষমতা বলে তারা এটা করেছেন। আশা করি আমার এতদূর পর্যন্ত যেতে হবে না।
ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, ফুটওভার ব্রিজে ব্যানার, পোস্টার না লাগাতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যারা এগুলো করছেন তারা আদালতের আদেশ অমান্য করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

