রাজধানীকে বাসযোগ্য মানবিক ঢাকা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পেোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র আনিসুল হকের আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। যে কয়েকদিন দায়িত্ব পালন করেছেন তার মধ্যেই নগরবাসীর মনে সফল মেয়র হিসেবে স্থান করে নিয়েছিলেন।
২০১৭ সালের ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে লন্ডন যান আনিসুল হক। সেখানে তিনি সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রদাহ) রোগে আক্রান্ত হন। অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাকে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনিসুল হক।
শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটিকে স্মরণ করে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরমধ্যে থাকছে গুলশান আজাদ মসজিদে বাদ আসর বিশেষ দোয়া।
২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচিত হন। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ‘স্মার্ট’ নগরী হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বেশকিছু উদ্যোগ নিয়ে আলোচিত ও প্রশংসিত হন তিনি।
নগরবাসীদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়ে ছিলেন মেয়র আনিসুল হক, দেখিয়েছিলেন কিভাবে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে হয়। বিলবোর্ড অপসারন করে নগরবাসীদের উন্মুক্ত আকাশ দেখিয়ে ছিলেন তিনি। জানযটে স্থবির যুক্ত ঢাকার রাস্তায় এনেছিলেন গতি। নেমেছিলেন দখলকৃত রাস্তা, ফুটপাত, পার্ক ও খাল দখলমুক্ত করার যুদ্ধে অনেকটা সফলও হয়েছিলেন। এমনিভাবে নগরবাসীর হৃদয়ে রাতারাতি জায়গা করে নেন মেয়র আনিসুল হক। তার অকাল মৃত্যুতে স্বপ্নের সেই ঢাকা আজও অধরা।
১৯৫২ সালে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন আনিসুল হক। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৮০ দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আনন্দমেলা’ ও ‘অন্তরালে’ নামে দু’টি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতেন। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ীও। ১৯৮৬ সালে তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদী গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুলের তৈরি পোশাক ছাড়া বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, আবাসন, কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা রয়েছে। ডিজি জাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেড এবং নাগরিক টেলিভিশনের মালিকানাও তার ব্যবসায়ী গ্রুপের।
২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল এ সময়ে বিজিএমইএ’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশে বেসরকারিখাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিআইপিপিএ’রও সভাপতি ছিলেন।

