ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক মাস্তান সেখানে দোকান খুলে বসে আছে। ওই মাস্তানদের দূর করতে উল্টো মাস্তানি করতে হবে। সেই মাস্তানি করতে হলে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ছাড়া কারওয়ান বাজার উঠিয়ে দিয়ে তা যাত্রাবাড়ী, আমিনবাজার ও মহাখালীতে সিটি করপোরেশন নির্মিত বাজারে স্থানান্তর করা হবে। রাজধানীর যানজট, অবৈধ বিলবোর্ড থেকে শুরু করে যেসব সমস্যা নাগরিকদের কষ্টের কারণ, তা সমাধানে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা। পরিচালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন। আনিসুল হক বলেন, ‘জলাবদ্ধতা ও যানজটসহ সব সমস্যা সমাধান রাতারাতি করা সম্ভব নয়। আমার কাছে আলাদিনের চেরাগের মতো কোনো সমাধান নেই। নগর সমস্যা সমাধানে আমি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেসব সমাধানের কাজে হাত দিয়েছি।’ তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারাই লিখছেন খালগুলোর কী অবস্থা। এগুলোকে সচল করতে না পারলে জলাবদ্ধতা দূর করা যাবে না।’ তিনি বলেন, এসব খালের মালিক জেলা প্রশাসক আর উদ্ধার ও উন্নয়নের দায়িত্বে আছে ওয়াসা। সিটি করপোরেশনের এ ক্ষেত্রে আইনগত কিছু করার নেই। কিন্তু জলাবদ্ধতা হলেই মানুষ সিটি করপোরেশনকে দোষ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৪৩টি খালের মধ্যে ২৬টি নেই। খালের জন্য টাকা ব্যয় করতে পারব না আমি। এটা আমার অথরিটির বাইরে। তবে আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগে চাপ দিচ্ছি যে, কোনো একটি অথরিটি যেন এ কাজটি করে।’ মেয়র বলেন, ঢাকার যেসব সমস্যা রয়েছে তার সমাধান করা সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। যানজট, অবৈধ বিলবোর্ড থেকে শুরু করে যেসব সমস্যা নাগরিকদের কষ্ট দিচ্ছে, তা সমাধান করতে হলে নগর সরকার ধরনের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা থাকতে হবে। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে দুই থেকে তিন লাখ গাড়ি চলতে পারে। কিন্তু গাড়ি আছে ১১ লাখ। ওই গাড়ির অনুমতি দিচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করে ট্রাফিক পুলিশ। তিনি বলেন, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাক মালিক ও চালকদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। আমার এখতিয়ার নেই, এর পরও তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেক মাস্তান সেখানে দোকান খুলে বসে আছে। ওই মাস্তানদের দূর করতে উল্টো মাস্তানি করতে হবে। সেই মাস্তানি করতে হলে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।
আনিসুল হক বলেন, রাজধানীর কারওয়ান বাজার উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই বাজারটিকে যাত্রাবাড়ী, আমিনবাজার ও মহাখালীতে সিটি করপোরেশন নির্মিত বাজারে স্থানান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা রাজিও হয়েছেন। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে উত্তরের মেয়র বলেন, ‘আপনারা থাকতে এ বিচার কেন হচ্ছে না? নিশ্চয় এখানে সমস্যা আছে। সমস্যা ও বিভক্তি দূর করতে হবে। আমিও এ হত্যার বিচার চাই।’ রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘সারা শহরে বর্জ্য। যেখানে যাই সেখানেই বর্জ্য। এত বড় একটা শহর। এ বর্জ্য কোথাও তো ফেলতে হবে। আমি একটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। পাঁচ থেকে ছয় কাঠা করে জায়গা লাগবে। আমি ৭০টি জায়গা সিলেক্ট করেছি। এর মধ্যে ১৪টি জায়গা আমার আর বাকিগুলো একেকটি মিনিস্ট্রির। ওই জমিগুলো নিয়ে বর্জ্য ফেলার স্থান করা হবে।’ অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ বিষয়ে মেয়র আনিসুল বলেন, ‘আমি চাই মানুষজন ব্যবসা করুক। বিলবোর্ড অ্যাসোসিয়েশনকে ডেকেছি, ইফতার খাইয়েছি, ৩০০ লোককে খাইয়েছি। তারা আমাকে ফরমালি চিঠি দিয়েছেন যে, তারা ইলিগ্যাল এক হাজার বিলবোর্ড তুলে ফেলবেন। কিন্তু জুন মাসে সব বিলবোর্ডের মেয়াদ চলে গেছে। তাদের বলেছি, আমি একজন ব্যবসায়ী, আপনাদের মারতে চাই না। আমি তিন মাস সময় দিয়েছি অবৈধ বিলবোর্ড খুলে ফেলার জন্য। তারা ১০ জনে মিলেও ৫০টা বিলবোর্ডও খোলেনি।’ আলোচনায় ডাকার পর তাতে সাড়া না দিয়ে বিলবোর্ড মালিকদের রাজপথে মানববন্ধন করার সমালোচনাও করেন মেয়র। হকার উচ্ছেদে ফার্মগেটে স্বস্তি এসেছে মন্তব্য করে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘হকারদের রাতারাতি তুলে দেওয়ার বিষয়ে ভাবতে হয়। তাদের পরিবার আছে। সে পরিবার তিন দিনের মাথায় খাবারই পাবে না। এ ছাড়া হকার উচ্ছেদে সারা শহরে চুরি-ডাকাতি রাহাজানি অনেক বেড়ে যাবে। সব ভেবে তাই ধীরে কাজ করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ফুটপাথকে সিঙ্গাপুরের মতো ফুলে ফুলে ঢাকতে চাই। আড়াইশ লোক কাজ করছে গ্রিন ঢাকা গড়তে।’আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় সাংবাদিকদের পুলিশ যে কোনো স্থান থেকে গ্রেফতার করতে পারে উল্লেখ করে ডিআরইউর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা এটি বাতিলের ব্যাপারে মেয়রের সমর্থন চান। উত্তরে আনিসুল হক বলেন, যারা এসব আইন তৈরি করেন, তারা ওপরের মহলকে ভুল বোঝান। আলো-আঁধারে থেকে অনেক সময় সবকিছু ঠিকমতো বোঝা যায় না। এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের মনে রাখা উচিত, সাংবাদিকরা দিন শেষে সরকারের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরে সহযোগিতাই করেন।’

View Source PDF