ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, আমি বর্তমানে দুই ধরনের দখলদাদের সঙ্গে বসবাস করছি। এক ধরনের দখলদার গরিব, যারা ফুটপাত দখল করেছে, যাদের পুলিশ তাড়ায়। আরেক ধরনের দখলদার ধনী। যারা সরকারের জায়গা দখল করে বাড়ি বানায়, গ্যারেজ বানায়। যারা উল্টো পুলিশকে তাড়ায়। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৬ এর উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আনিসুল হক বলেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র হিসেবে আমি কথা দিচ্ছি, অবৈধ দখলে থাকা প্রতি ইঞ্চি জায়গা উদ্ধার করা হবে। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের পরিবেশ এতই খারাপ যে, ২৫ শতাংশ শিশুর ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে কিছু গাছ কাটা হচ্ছে ঠিকই, তবে গত এক বছরের ৩২ হাজার গাছ লাগিয়েছি। আগামী দুই বছরের আরও ৫ লাখ লাগানোর পরিকল্পনা আছে। এটি করতে পারলে আশা করছি ঢাকা শহরের যে তাপমাত্রা বর্তমানে বিরাজমান তার ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি কমবে। মেয়র বলেন, আমি ওয়াদা করেছি, ঢাকাকে যানজট ও হকারমুক্ত করবো। যদিও কোনোটিই করার এখতিয়ার মেয়রের নেই। তবে সবার সহযোগিতায় এগুলো করার চেষ্টা করছি। অনেকে রাস্তা দখল করে বাড়ি বানিয়েছেন। রাস্তা দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম, তারা শোনেননি। এরপর রাতের বেলা বুলডোজার চালিয়ে সিটি করপোরেশনের জায়গা উদ্ধার করেছি। তিনি বলেন, আমরা ঢাকাকে বিলবোর্ড মুক্ত করেছি। বিলবোর্ডোর পেছনে এতো বড় শক্তি কাজ করে তা আগে জানতাম না। গত ৪ মাসে ২০ হাজার বিল বোর্ড ফেলে দিয়েছি। মানুষ এখন কথা শুনছে। ঢাকাকে সুন্দর করতে এবং সুন্দর রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। মেয়রের পক্ষে একা কিছুই করা সম্ভব নয় যদি আপনারা সহযোগিতা না করেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য রাখেন।
Published in: জনকণ্ঠ ২৯ নভেম্বর ২০১৬

