ঢাকা শহরে যানজটের অন্যতম কারণ আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। আসলেই আগামী ৫ মাসের মধ্যে আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজিক প্রতিষ্ঠান তুলে ফেলা সম্ভব কিনা সাংবাদিক প্রভাষ আমিনের এমন প্রশ্নে ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক জানান, ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থ দেখবেন এটা স্বাভাবিক। আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক ভবন সরাতে সমঝোতা দরকার। মেয়রের এক বছর পূর্তিতে বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি’তে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে সাংবাদিক প্রভাষ আমিন বলেন, ‘আবাসিক এলাকা নিয়ে ভাবার আছে। ধানমণ্ডিসহ রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলো এখন নামে মাত্র আবাসিক। তবে এর মানে এই না, প্রয়োজন থাকার পরও একটা ওষুধের দোকান থাকবে না। প্রয়োজন মেনে এসব থাকতে হবে। তা না হলে আবাসিক এলাকার মানুষ এক ধরনের বন্দি জীবন যাপন করতে বাধ্য হবে।’

এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘আমার দুটি সত্ত্বা, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আমার যেমন দায়িত্ব, তেমনি আরেকটি হলো আমি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। যারা আবাসিক এলাকায় ব্যবসা করেন তাদের নিয়ে সভা ডাকা হয়েছিল। সে সময় আমাদের সমীক্ষায় বেরিয়ে আসে রাজধানীতে ৭০০০ এমন অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আছে, যার মধ্যে ৬ হাজার উত্তরে অবস্থিত। এরা বাণিজ্যিক কোনও এলাকার নামে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এসব এলাকায় ব্যবসা করছে। ২০০৭ সালের আগে এসব এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া যেত, এখন আর উপায় নেই। কেউ নিয়ে থাকলে কোনও না কোনওভাবে জালিয়াতি হয়েছে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো এসব এলাকায় হোটেলের প্রয়োজন আছে। শহরটা ছোট, মানুষ অনেক বেশি। আমি সে জন্য মনে করি একধরনের দীর্ঘ বা স্বল্পমেয়াদি সমঝোতার মধ্য দিয়ে কাজগুলো হাসিল হতে পারে। পার্কিং না করতে পারলে সেটা সমঝোতা করা যেতে পারে, কোন রাস্তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার হচ্ছে সেটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলে সমঝোতা করা যেতে পারে। চাইলেই তুলে দেওয়া যাবে কিনা সে বিষয়ে আমি সন্দিহান। কারণ এসব প্রয়োজনেই তৈরি হয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানে অনেকে চাকরিও করেন।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ছাড়াও মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে উপস্থিত আছেন, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিন, সিক্স সিজনস হোটেলের পরিচালক কাজী আকিব শামস, স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও স্থপতি খন্দকার আনসার হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রভাষ আমিন, বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান ও বাংলা ট্রিবিউনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জুলফিকার রাসেল। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করছে একাত্তর টেলিভিশন।

View Source PDF