প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, দেশকে ভালবেসে দেশের উন্নয়নে কীভাবে কাজ করতে হয় তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেছেন মেয়র আনিসুল হক। ব্যবসায়ীরাও যে ভাল রাজনীতিবিদ হতে পারে তাও বুঝিয়ে গেছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আনিসুল হকের স্বজন, বিজিএমইএর সাবেক কয়েকজন সভাপতি ও এফবিসিসিআইর সভাপতিসহ তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, কীভাবে উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রাখতে হয় তা বুঝিয়ে গেছেন আনিসুল হক। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ব্যবসায়ীরা ভাল রাজনীতিবিদ হতে পারেন। তাই দেশের উন্নয়নে আনিসুল হকের আদর্শ ধারণ করে, আরো অনেক আনিসুল হক তৈরী করতে হবে।

আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক স্বামীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, কপালি মানুষ কপাল নিয়ে চলে গেছেন। সেটা শুধু একটি কারণে, প্রধানমন্ত্রী সেই জায়গাটা করে দিয়েছেন। আনিসুল যদি সরকারে না থাকতেন, তাহলে এতো মানুষের ভালোবাসা পেতেন না। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, আনিস কখনো চাননি কর্মহীন জীবন যাপন করতে। আল্লাহ তাকে তার সময়মতো নিয়ে গেছেন। আমাদেরকে তিনি শূন্য করে দিয়ে গেছেন কিন্তু তিনি খুব সুন্দরভাবে গেছেন।

আনিসুল হকের জন্য দোয়া চেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে রুবানা হক বলেন, আপনারা আনিসের জন্য দোয়া করবেন। কখনো প্রশ্ন করিনি আল্লাহ তাকে কেন নিয়ে গেছেন। কারণ, যেভাবে গেছেন এভাবে যাওয়ার জন্য কপাল লাগে। মৃত্যু খুব সহজ। চার মাস আমরা যুদ্ধ করেছি। উনি কিছুই টের পাননি। ঘুমিয়ে ছিলেন। শুধু একদিন জেগে ছিলেন। কষ্ট আমার হয়েছে, উনার হয়নি।

আনিসুল হকের নামে একটি ফাউন্ডেশন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আনিস আমাকে এবং সন্তানদেরকে শিখিয়েছেন সংকীর্ণ না হতে। শিখিয়েছেন উদার হতে। সবাই বার বার বলছেন, আনিস ফেরত আসবে না। আমার বিশ্বাস এমন সহস্র আনিস বাংলাদেশে আসবে। আনিসুল হকের নামে ফাউন্ডেশন করা হয়েছে। সেখান থেকে মিডিয়া, উদ্যোক্তা, বিশেষ শিক্ষা এ কয়েকটি খাতে স্কলারশিপ দেয়া হবে। এর মাধ্যমে কোন না কোন ফর্মে ফিরে আসবে আনিসুল।

বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঢাকার উত্তরা এলাকার রাস্তা ও পরিবেশের এতো উন্নয়ন হয়েছে যে, সেখানে গেলে টের পাওয়া যায় উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রেখেছিলেন আনিসুল হক।

সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা বলেন, শুধু ব্যবসা নয়, সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সফল। সে হিসেবে আমরা একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারালাম । তার মুখে কখনো শুনি নাই কোন কাজ অসম্ভব। সাহসী ও দৃঢ় লোক ছিলেন তিনি। ছিলেন কর্মময়।

আনিসুল হক রাজনৈতিক বিভাজনে বিশ্বাসী ছিলেন না, সব দলের লোকের সাথে তার সখ্যতা ছিল বলে উল্লেখ করেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদ ।

আনিসুল হক ছিলেন একটি ইনস্টিটিউশন মন্তব্য করে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, জীবনটা একটা ট্রানজিট। কিন্তু আনিসুল এতো স্বল্প সময়ের জন্য আসবেন বুঝতে পারিনি। নির্বাচনের সময় তিনি অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু সেসব কীভাবে বাস্তবায়ন হবে আমরা বুঝতে পারিনি। আজ আনিস নেই। কিন্তু তার প্রতিশ্রুতিগুলো দৃশ্যমান।

সাবেক সভাপতি এসএম ফজলুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে পছন্দ করতেন খালেদা জিয়াও তাকে পছন্দ করতেন। একজন মানুষকে দুইজন এভাবে পছন্দের নজির কম।

আনিসুল হকের নামে রাজধানীতে একটি সড়কের নামকরণ করার আহ্বান জানিয়ে সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, জাতীয় পতাকা বুকে ধারণ করে কবরে যাওয়ার ভাগ্য সবার হয় না। আনিস সেটা পেরেছেন।

অনুষ্ঠান শেষে আনিসুল হকের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।