ঢাকা: দু’বছর আগে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র হয়েছিলেন আনিসুল হক। সে বছর ৬ মে শপথ নেন আর ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার বুঝে নেন।
দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলানিউজের সঙ্গে মঙ্গলবার (১৬ মে) একান্ত আলাপচারিতায় বসেন মেয়র। তাতে আগামী দিনের ভাবনা, ভিশন ও স্বপ্ন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পাশাপাশি পুরনো দিনের চ্যালেঞ্জের কথাও শোনাতে ভোলেননি এই উদ্যমী নগরপিতা। আজ পড়ুন দুই পর্বের সেই আলাপচারিতার প্রথম পর্ব :
বাংলানিউজ: দুই বছর পূর্ণ করলেন। মেয়র হিসেবে দুই বছরের অভিজ্ঞতা যদি বলেন।
আনিসুল হক: আমি দুই বছর পূর্তি বলছি না। আমরা দেখি প্রচেষ্টার দুইবছর। এই দুই বছরে অনেক পুরনো কিছু বিষফোঁড়া দূর করেছি। যেমন তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ। গাবতলীর যানজট, মহাখালী কাঁচাবাজার সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে বেশকিছু কাজ হয়েছে। আরও অনেক কাজ এখনো করার বাকি। যেতে হবে বহু দূর।
বাংলানিউজ: আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলেছিলেন প্রতি ওয়ার্ডে ডে-কেয়ার সেন্টার করবেন। সেই কাজের অগ্রগতি কি?
আনিসুল হক: এই দুই বছরে রাস্তা, স্যূয়ারেজ লাইনের এতো চাহিদা! অন্যদিকে নজর দেওয়ার সময় পাইনি। আগে ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করি। তারপর পোলাও মাংস হবে।
বাংলানিউজ: আপনার নির্বাচনী ইশতিহারে ছিল নগরবাসীর প্রধান সমস্যা মশা। সেটা নিয়ে আপনি অসহায়ত্বও প্রকাশ করেছেন। এর সমাধান কী হবে না?
আনিসুল হক: দায়িত্ব নেওয়ার পর মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করতে ২০০টি হ্যান্ড-স্প্রে মেশিন ও ১১০টি ফগার মেশিন, ১০টি হুইল বারো মেশিন এবং একটি ভেহিক্যাল মাউন্টেড ফগার মেশিন ক্রয় করি। তারপরেও মশা আছে। আমার বাসায়ও মশা কামড়ায়। তবে মশা বড় ইস্যু না। যানজট, ড্রেনেজ ও বর্জ্য সমস্যা–এগুলোই নাগরিকদের প্রধান সমস্যা। সেগুলোর দিকে বেশি মনযোগ দিচ্ছি।
বাংলানিউজ: দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছিলেন সেবা সংস্থাগুলোর কাজে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীও একটি নির্দেশনার মাধ্যমে সকল সেবাসংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। কর্পোরেশনের বোর্ডসভায় সকল সেবা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিলেন। সেই নির্দেশনার কতটুক বাস্তবায়ন হয়েছে?
আনিসুল হক: আগের চাইতে অনেক বেশি কো-অর্ডিনেশন হচ্ছে। এখন ওয়াসাও সতর্ক, আমরাও সতর্ক। আগে প্রতিদিন অনুমতি নিতে হতো। এখন হয়তো তিন মাসে একবার লাগে। সমন্বয় হচ্ছে। সকল সেবা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে মিটিং ২-৩ টা হয়েছে। তবে ছোটখাটো মিটিং প্রতিনিয়তই হচ্ছে। এছাড়া ফোনেও কথা বলে নিচ্ছি।
বাংলানিউজ: নগরবাসী প্রতিনিয়ত ‘উন্নয়নের ভোগান্তি’তে পড়েন। বিশেষ করে ওয়াসা, ডেসা, তিতাসের রাস্তা কাটা আর আপনাদের খোঁড়াখুঁড়ি। নগরবাসী এ থেকে কবে পরিত্রাণ পাবে?
‘পুরাতন বিমানবন্দরের দেয়াল খুলে দিতে চাই’
আনিসুল হক: সকল সংস্থার এক সঙ্গে কাজ করা মোটেও সম্ভব না। কেননা একেক সংস্থার টাকা ছাড় হয় একেক সময়। আবার কাজের চাহিদাও ভিন্ন ভিন্ন সময় হয়ে থাকে। কাজেই একবারে সব কাজ হবে এটা কোনোদিনই সম্ভব নয়। গত ২৫ বছরের সমস্যা আগামী ৩০ বছরেও থাকবে। তবে এখন কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। আরও আসবে।
বাংলানিউজ: নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন, মহিলাদের জন্য আলাদা বাস নামাবেন। সেটি কবে দেখতে পাবে নগরবাসী?
আনিসুল হক: যে চার হাজার নতুন বাস নামবে সেগুলোর মধ্যেই মহিলা বাস থাকবে। এর মধ্যে এক হাজার থাকবে এসি বাস।
বাংলনিউজের প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মেয়র আনিসুল হক
বাংলানিউজ: দুই বছর তো গেল, এবার নতুন বছরে কি চমক থাকছে?
আনিসুল হক: অনেক চমক দেখতে পাবেন নগরবাসী। প্রতিনিয়তই ঢাকার চেহারা বদলাচ্ছে। আমার পরিকল্পনা আছে পুরাতন বিমানবন্দরের দেয়াল খুলে দিয়ে ওখানে উন্নত ও শক্ত গ্রিল দিয়ে বেড়া দেওয়ার। গত দেড় বছর বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছি। এখনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনি। দেয়াল খুলে গ্রিল দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ ভেতরের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া ওখানে একটি সাইকেল লেন, হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে এবং গাড়ি চলাচলের জন্য পৃথক দুটি লেন থাকবে। পরিকল্পনা আছে, আলোচনা চলছে, কবে হবে বলতে পারছি না।
বাংলানিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আনিসুল হক: ধন্যবাদ।

