রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড-সংলগ্ন মেয়র আনিসুল হক সড়কটি ফিরে গেছে আগের চেহারায়। সেই আগের মতোই ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপসহ বিভিন্ন গাড়ি রাস্তা জুড়ে পার্কিং করা থাকে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের।
প্রচণ্ড বাধার মুখে অনেক চেষ্টার পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে সাতরাস্তা থেকে কাওরান বাজার রেল ক্রসিং পর্যন্ত সড়কটি ‘পার্কিংমুক্ত’ ঘোষণা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্কালীন মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক। সড়ক সংস্কার করে সড়ক বিভাজকে লাগানো হয় বহু গাছ। পরে এই সড়কের নামকরণ করা হয় আনিসুল হক সড়ক। মূলত মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পরই সড়কটি অবৈধ দখলের পাঁয়তারা শুরু হয়। এক পর্যায়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর সড়কটি ফিরে যায় আগের অবস্থায়।
গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের ওপর সার বেঁধে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ রাখা আছে। সড়কের দুই পাশে কোথাও এক লাইন, কোথাও দুই লাইন করে ট্রাক পার্কিং করা। সিএসডি গুদামের ২ নম্বর গেট, সিএসডি ভাঙা গেট মোড় হয়ে পুরোনো এফডিসি সড়কের পুরোটাই এখন ট্রাকের দখলে। গাড়ি পার্ক করা এই সড়কের মাঝে যে জায়গা আছে, তাতে একটি গাড়ি বা রিকশা কোনোমতে চলতে পারে। দুটি যানবাহন একসঙ্গে গেলে জটলা বেঁধে যায়। এ কারণে সড়কটিতে তৈরি হচ্ছে যানজট। এছাড়া অবহেলা ও অযত্নে মারা গেছে সড়ক বিভাজকে লাগানো গাছ, ভেঙে গেছে লোহার রেলিং। ম্লান হয়ে গেছে সড়কের সব সৌন্দর্য। তবে ট্রাক স্ট্যান্ডের ভেতরে ও সড়কের পাশে ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের জন্য নির্মিত অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট দুটি নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান বলেন, তেজগাঁওয়ে রয়েছে সিএসডি গোডাউন, কেন্দ্রীয় ওষুধ গুদাম, বিজি প্রেসসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই মালামাল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান যখন তৈরি করা হয়েছিল, এর সামনে গাড়ি পাকির্ং করার মতো কোনো জায়গা রাখা হয়নি। এছাড়া প্রতিদিন কাওরান বাজারে কাঁচামাল নিয়ে আসে কয়েক শ ট্রাক। এসব গাড়ি রাস্তা ছাড়া অন্য কোথাও রাখার জায়গা নেই। এছাড়া তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডে প্রতিদিন ৪ হাজারের বেশি গাড়ি চালান নেওয়ার জন্য আসে। অথচ এই স্ট্যান্ডে সর্বোচ্চ দেড়-দুই হাজার গাড়ি রাখা যায়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রচেষ্টায় সড়কটি উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়। কিন্তু এখন করোনা ভাইরাসের কারণে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। এর পরও আমরা এবং ড্রাইভারস ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রায়ই মাইকিং করে রাস্তা থেকে ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার কথা জানাচ্ছি। কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছি নানা কারণে।’ তিনি আরো বলেন, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ঢাকার আশপাশে কোথাও ট্রাক স্ট্যান্ডটি স্থানান্তরের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যোগদানের পর থেকেই সড়কটি গাড়িমুক্ত রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু করেনাকালীন আমরা ভয় পেয়ে হোক বা মানবিক কারণেই হোক, বিষয়টি আমলে নিইনি। আর এই সুযোগটাই তারা নিয়েছে। তবে এখন রাস্তাঘাটে গাড়ি চলাচলের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা দুই-চার দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সড়কের অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফি উল্লাহ শফি বলেন, ‘পুলিশের ডিসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি সড়কটি পরিষ্কার করে দেবেন। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু ঠিক করা সম্ভব হবে।’

