রাজধানীর গুলশান-বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার ফুটপাত ও রাস্তা থেকে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের নিজস্ব স্থাপনা সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, রাস্তা ও ফুটপাতে স্থাপনা তৈরি করা সমীচীন নয়।
গতকাল মঙ্গলবার ইতালি ও পাকিস্তান দূতাবাসসংলগ্ন ফুটপাত থেকে কংক্রিটের ব্লক সরানোর কাজ পরিদর্শনে এসে মেয়র আনিসুল হক আরও বলেন, দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সচেষ্ট সরকার।
বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ছবি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে মেয়র বলেন, আমরা তো ফুটপাতে অবকাঠামো বানিয়ে চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করিনি। আমাদের দেশে যারা ফুটপাতে স্থাপনা তৈরি করেছে তাদের অনেকের চেয়ে বাংলাদেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক কম।
আনিসুল হক আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পর এবার ইতালি ও পাকিস্তান দূতাবাস তাদের কার্যালয় সংলগ্ন ফুটপাত থেকে কংক্রিটের নিরাপত্তা চৌকি সরিয়ে সেটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিল। অস্ট্রেলীয় দূতাবাসও সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েক মাস ধরে দূতাবাসগুলোতে যোগাযোগ করে অনুরোধ করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সহযোগিতা মিলছে। কয়েকটি দূতাবাস আশানুরূপ সহযোগিতা করছে না। তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে সম্মত করার চেষ্টা চলছে। বলপ্রয়োগ বা বাধ্য করার কোনো প্রচেষ্টা ডিএনসিসি নিচ্ছে না।
এ সময় রাশিয়া, জার্মানি, সৌদি আরব, ফ্রান্স, ইউকে ও তুরস্ক দূতাবাসকে দ্রুত নিজ উদ্যোগে ফুটপাত থেকে নিরাপত্তা চৌকি সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানান আনিসুল হক।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, ২০০১ সালে একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা সিটির মেয়রকে ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ২০১৬ সালে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ড. এ টি এম শামসুল হুদা ডিএনসিসির মেয়রকে চিঠি লিখে ফুটপাত থেকে দূতাবাসের স্থাপনা সরানোর ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দূতাবাস কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে ফুটপাত ও রাস্তার ওপর নির্মিত তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায় গত ৪ মার্চ বারিধারায় অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডিয়ান দূতাবাস নিজ উদ্যোগে তাদের কার্যালয়ের পাশে ফুটপাতে গড়ে তোলা নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে নেয়।