সুন্দর নগরী গড়তে টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী ও দায়িত্বশীলদের পরামর্শ নিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক।
সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ডিএনসিসি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মেয়র বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহীদের পরামর্শ শোনেন।
সভায় মেয়র তার দায়িত্বকালে গৃহীত নানা পদক্ষেপ এবং স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
মেয়রের একার পক্ষে নগরী সুন্দর রাখা সম্ভব নয়— একথা উল্লেখ করে নাগরিক-সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণার জন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কাছে বিনাঅর্থে এক মিনিট সময় প্রার্থনা করেন মেয়র। তবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ ছাড়া অন্যরা এ ব্যাপারে সম্মতি জ্ঞাপন করেননি। পরে মেয়র বিষয়টি নিয়ে আগামীতে টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী শাইখ সিরাজ, মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মুনয়েম, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির প্রধান নির্বাহী এম শামসুর রহমান, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী সামিয়া জামান, সময় টিভির প্রধান নির্বাহী আহমেদ জুবায়ের, দীপ্ত টিভির প্রধান নির্বাহী উরফি আহমেদ, মোহনা টিভির প্রধান নির্বাহী ওয়াসিউর আলম সুমন, আর টিভির প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশিক রহমান, এসএ টিভির প্রধান নির্বাহী সালাহউদ্দিন জাকির, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ, এনটিভির হেড অফিস নিউজ খায়রুল আনোয়ার, এটিএন নিউজের হেড অফ নিউজ মুন্নী সাহা, বাংলাভিশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াক হোসেন, মোহনা টিভির এমডি জিয়াউদ্দিন আহমেদ, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ইনপুট এডিটর তালাত মাহমুদ, চ্যানেল নাইনের হেড অফ নিউজ আমিনুল রশিদ, বৈশাখী টিভির ডিএমডি টিপু বাসেত প্রমুখ।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে মেয়র আনিসুল হক রাজধানীকে সুন্দর করতে এবং যানজট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়রের পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে এ জন্য সকল স্টর্ম স্যুয়ারেজ ও সারফেস ড্রেন সিটি করপোরেশনের হাতে ন্যস্ত করার দাবি জানান তিনি।
মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, পাঁচজন বিচারপতি ও দু’জন মন্ত্রী ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে অন্যরাও উৎসাহিত হবে। সম্প্রতি তিনি এ দৃশ্য দেখেছেন সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের মরদেহ বিমানবন্দরে নেওয়ার সময় মন্ত্রিপাড়ার রাস্তায়। এটা যেন না হয়।
শাইখ সিরাজ বলেন, রাজধানীতে নিরাপদ বাহনের খুব অভাব। এছাড়া রাতের বেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা সাধারণ মানুষ খুব বিপদগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি নগরীর ফুটপাতগুলো অবৈধ দখল মুক্ত করারও অনুরোধ জানান।
ফাহিম মুনায়েম বলেন, অনেক দেশের সঙ্গেই বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি হয়। রাজধানীর যানজট নিরসনের জন্যও জাপানের সঙ্গে সিটি করপোরেশন চুক্তি করতে পারে।
জ ই মামুন বলেন, রাতে রাজধানীর গণপরিবহনে কোনো নিরাপত্তা থাকে না। এই নিরাপত্তা থাকলে রাতেও মানুষ কাজ করতে পারতেন।
মুন্নী সাহা বলেন, এক মিনিট সচেতনতামূলক কার্যক্রমের জন্য সিটি করপোরেশনের কোনও বাজেট না থাকলে সস্তার তিন অবস্থার মতো হয়ে যেতে পারে।
ইশতিয়াক হোসেন রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং নগর সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানান।
সামিয়া জামান একাত্তর টিভিতে একদিনের একটি অনুষ্ঠানের জন্য মেয়রকে অনুরোধ জানান; যেখানে নগরবাসী মেয়রকে সরাসরি প্রশ্ন করতে ও পরামর্শ দিতে পারবেন।
সভায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল ইসলাম, সচিব নবীরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনোয়ারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।