এই তো কিছুদিন আগের গল্প। রাজধানী ঢাকার বনানীতে ঢুকে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল পরীমণির। বনানী এলাকায় তাঁর বাসা। সেখানে রাস্তার পাশে গাছ কাটা হচ্ছে। তখন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক চোখের সামনে ভেসে এলো। তিনি বলেন, ‘আজ উনি থাকলে কি এটা হতো! বনানীতে ঢুকলেই আনিস ভাইকে খুব মিস করি। মন থেকে অনুভব করি। তিনি থাকলে হয়তো গাছটি কাটা হতো না। তিনি থাকলে এই শহরটার চেহারা বদলে যেত। আমার মতো অনেকেই সেটা বিশ্বাস করেন। একটি সবুজ ঢাকা গড়তে, একটি শৃঙ্খলিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে কত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, কত স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি থাকলে হয়তো এত দিনে সেগুলো বাস্তবায়নেরও মুখ দেখত। তিনি নেই, আর সব কিছু যেন থমকে গেছে। আমরা কি পারি না আনিসুল হকের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে?’
জন্ম ও বেড়ে ওঠা বরিশালে। ঢাকায় অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। প্রথম কবে ঢাকায় এসেছিলেন মনে করে বলতে পারলেন না। তবে তিনি বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় আত্মীয়-স্বজনের বাসায় আসা হতো। আমার ঢাকার বাইরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তবে স্থায়ীভাবে থাকা যখন থেকে সিনেমায় কাজ শুরু করি। ’পরিবার তাঁর ইচ্ছাটাকে খুব গুরুত্ব দিত। তবে পরিবার থেকে চাইতো যেন বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা কমপ্লিট করেন। ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবির মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু। তবে তখনো মনস্থির ছিল না সিনেমায়ই স্থায়ী হতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘যখন ‘রানা প্লাজা’ সিনেমার কাজ শুরু করলাম। তখন মনে হয়েছে আসলে এটার জন্যই তো আমি। ওকে ফাইন, এটাই করা উচিত আমার। সিরিয়াস হলাম। একটার পর একটা কাজ করলাম। তবে আমার কখনোই ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। সিনেমায় স্থায়ী হওয়ায় সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকায়ও স্থায়ী হলাম। ’’

ঢাকার সবচেয়ে ভালো লাগে জ্যাম। ঈদের সময় ঢাকা নাকি এতিম হয়ে যায়। পরীমণি বলেন, ‘ঢাকা কেন ফাঁকা থাকবে? জ্যামের শহর ঢাকা, এটাই এর বৈশিষ্ট্য। যাকে বলে ঢাকার বিচ্ছিরি রকমের সৌন্দর্য! অনেক বোরিং, তার পরও ভালো লাগে। ঢাকার সঙ্গে আমার প্রেম হয়ে গেছে। বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড প্যারা দিলেও যেমন ভালো লাগে; ঢাকা তেমনই আমার কাছে। যতই প্যারা দিক, তবু আমার ঢাকা। দেশের বাইরে গেলেও অস্থির হয়ে থাকি, কখন ঢাকায় ফিরব। কেমন যেন ঢাকার সঙ্গে নারীর টান হয়ে গেছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। ’

সড়ক বাতির আবছা আলো, অপেক্ষাকৃত ফাঁকা রাস্তা, বহুমুখী কর্মব্যস্ততা—সব মিলিয়ে পরীমণির কাছে রাতের ঢাকা অন্য রকম। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে রাতের ঢাকার নীরবতা। কেমন একটা রহস্যময় পরিবেশ থাকে। চুপচাপ, মনে হয় শহরের মানুষগুলো নয়, শহরটাই ঘুমিয়ে আছে। আমি যতবার রাতে ঘুরেছি, ততবার মুগ্ধ হয়ে এই নীরবতাকে উপভোগ করেছি। অন্যদিকে দেখেছি জীবনের তাড়নায় বিশ্রামের জায়গা হিসেবে রাজধানীর ব্যস্ত কিছু সড়কের ব্রিজ আর রাস্তার ডিভাইডারে আশ্রয় নেয় হাজারো মানুষ। ফুটপাতের মানুষরা কাঁথা, চটের বস্তা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকে। পলিথিন বা মশারি দিয়ে নিজেদের যতটুকু সম্ভব সেফ রাখে তারা। বর্ষা আর শীত তাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। রাতের ঢাকার এসব অনেক কিছুই কষ্ট দেয়। ইচ্ছা হয় তাদের জন্য কিছু করি। সময়-সুযোগ পেলে আমি অবশ্যই তাদের জন্য কিছু করব। ’

View Source PDF