ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকা থেকে গত এক বছরে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ বিলবোর্ড এবং ৭০ হাজার ব্যানার-ফেস্টুন উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখনো যেসব রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুন রয়ে গেছে, সেগুলো স্বেচ্ছায় সরিয়ে না নিলে সেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার সকালে গুলশানে সিটি করপোরেশনের নতুন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল হক বলেন, গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। ঢাকা এখন মোটামুটিভাবে অবৈধ বিলবোর্ডমুক্ত। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের এক নির্দেশের পর সিটি করপোরেশনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে আরও ২০০ বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চার বছর আগে হাইকোর্ট এক আদেশে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পাবলিক স্থাপনায় অবৈধ ও বেআইনিভাবে স্থাপিত হোল্ডিং, পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখনসহ সব প্রচারণা উপকরণ অপসারণে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (উত্তর ও দক্ষিণ) সময় দেওয়া হয়। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট আরেক আদেশে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সেসব অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না, তা জানতে চেয়েছেন। আগামী সোমবারের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বাস্তবায়নের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার আদালতের আদেশের জবাব দেবেন জানিয়ে মেয়র বলেন, এখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাচ্ছেন। এটাকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তারা স্বেচ্ছায় সেসব সরিয়ে না ফেললে উচ্ছেদ করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, তোরণ বসানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘এটা ঠিক, তিন-চারজন কাউন্সিলর এমন কাজ করছেন। তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে বলেছি সেগুলো সরিয়ে নিতে। আজকের পরে নিশ্চয়ই কাউন্সিলররা আরও সচেতন হবেন।’
এখনই আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অনুরোধ করা হচ্ছে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘আইনি ব্যবস্থা চাইলে নেওয়া যায়। এর বদলে শান্তি-সম্প্রীতির মাধ্যমে তা সমাধান করতে চাই। অনুরোধে অনেক কাজ হয়েছে। আশা করছি, কঠোর হতে হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দুই বছরের মধ্যে ভবন রং করা না হয়ে থাকলে তা রং করানো, দেয়ালে বা অন্যত্র অননুমোদিতভাবে পোস্টার বা ব্যানার না লাগানো, ফুটপাতে র‍্যাম্প (গাড়ি ওঠানো-নামানো ঢালু পথ) না বানানো, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় আকারের সাইনবোর্ড ব্যবহার না করা।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম এম সালেহ ভূঁইয়া, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।