নবনির্বাচিত মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে এবং একটি বাসযোগ্য নগরী গড়তে নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
আজ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সহস্র নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারা এই সহযোগিতা কামনা করে আরো বলেন, ‘যত পরিকল্পনা আর উন্নয়নের উদ্যোগই নেয়া হোক তা কখনোই সফল করা সম্ভব নয়, যদি জনগণ এই কাজে সহযোগিতা না করেন এবং এর সাথে জনসম্পৃক্ততা না থাকে। ’
সহস্র নাগরিক কমিটির আহবায়ক সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সমন্বয়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, কমিটির সদস্য সচিব গোলাম কুদ্দুস, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন।
ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আত্মিক ও বুদ্ধিভিত্তিক উন্নয়ন করা গেলে অনেক নগরীর সমস্যা আপনা আপনিই সমাধান হয়ে যাবে।
এক্ষেত্রে তিনি নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক গণগ্রন্থাগার স্থাপন করে যুব সম্প্রদায়ের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে এদেশে শিক্ষিতের হার ছিল অনেক কম। কিন্তু তখনো মানুষ ভাষার জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন। আমাদের তরুন প্রজন্মকে এইভাবেই প্রস্তুত করতে হবে।
যানজট ও নগরীর পরিচ্ছন্নতার মতো নগরীর দৃশ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান কল্পে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে উল্লেখ করে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, এই নগরীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে।
শতভাগ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করে উত্তর সিটির নবনির্বাচিত মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘ডিসিসির দুর্নীতির বদনাম থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ’
যেকোন পরিস্থিতিতে সংযমী হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দু’একজন পুলিশ বা এ ধরনের দু’একজনের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনী, অথবা পুরো সরকার বা পুরো প্রশাসনের বদনাম হয়। আমরা নির্বাচনের সময় যে নিরাপদ নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, এরজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা। ’
ঢাকা দক্ষিণের নবনির্বাচিত মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, উন্নয়নের জন্য দরকার সবার সামগ্রিক প্রয়াস। সবাই সহযোগিতা করলে উন্নয়ন অবশ্যই সম্ভব। তিনি সব শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সহযোগিতা চান।
তিনি বলেন, আসছে শবেবরাতেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সব রাস্তায় শতভাগ লাইটিং করা হবে। এছাড়া ঢাকা সিটিকে পরিচ্ছন্ন করার লক্ষ্যে নগরীর ১ লাখ ৪৩ হাজার হোল্ডিংয়ে বিনামূল্যে পলিথিন প্যাকেট সরবরাহ করা হবে, যাতে ময়লা ও বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে রাখা যায়।
সাঈদ খোকন বলেন, ‘মেয়র নয়, একজন ভুক্তভোগী হিসেবে জানা আছে শহরের সমস্যা কোথায়? শত সমস্যার মাঝেও ঢাকাবাসী মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের আছে ৭০০ বছরের ইতিহাস। এই শহরের মানুষের মধ্যে যে মমত্ববোধ, স্নেহ, ভালবাসা রয়েছে তা পৃথিবীর অন্য কোন শহরে নেই। হাজারো সমস্যার মধ্যেও একটি বাসযোগ্য শহর গড়তে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি। কথা দিচ্ছি, একটি বাসযোগ্য সুন্দর শহর আপনাদের উপহার দেব। ’
আবেগ আপ্লুত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধারা যদি মাত্র ৯ মাসে একটি দেশ উপহার দিতে পারে, তাহলে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি কেন ৫ বছরে একটি বাসযোগ্য নগরী গড়তে পারবো না। ’
বুড়িগঙ্গাকে দুষণমুক্ত করতে ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতার একটি আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

